নিরাপত্তা দেখে বিদেশে যাবে ক্রিকেটাররা

0
20

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে কোনো দেশে খেলতে পাঠানোর আগে সেদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করেই পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আগামীতে যেখানেই আমাদের ক্রিকেট টিম পাঠাব, সেখানে অন্তত তাদের নিরাপত্তার বিষয়টা আমরা ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই পাঠাব। কারণ আমাদের দেশে যারা খেলতে আসে, তাদের আমরা সব সময় যথাযথভাবে নিরাপত্তা দিয়ে থাকি। গতকাল শনিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় চার লেনের ফ্লাইওভার ও লতিফপুর রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধন করেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনার পাশাপাশি এ ঘটনায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বেঁচে যাওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই ঘটনাকে ঘৃণ্য সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করে এ ধরনের ঘটনা বন্ধে বিশ্ববাসীকে একযোগে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ক্রিকেট খোলোয়াড়দের ওই মসজিদেই নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা ছিল। তারা গিয়েছিলও; কিন্তু ওখানে একজন আহত নারী তাদের মসজিদের মধ্যে ঢুকতে দেননি। তারা কোনোমতে জীবন নিয়ে ফিরে আসে। এ জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে আমি শুকরিয়া আদায় করি। সরকারপ্রধান বলেন, আশা করি বিশ্ববাসী এ ধরনের ঘটনার শুধু নিন্দাই করবে না, এ ধরনের সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী ঘটনা যেন বন্ধ হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। এই হামলাকে জঘন্য ও ঘৃণ্য কাজ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা জঙ্গি, যারা সন্ত্রাসী তাদের কোনো ধর্ম নেই, দেশ নেই, জাতিও নেই। তারা সন্ত্রাসী। এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। গত শুক্রবার নিউজিলান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় আল নুর মসজিদ এবং লিনউড মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ জন নিহত এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল সে সময় তৃতীয় টেস্টে অংশগ্রহণের জন্য ক্রাইস্টচার্চে অবস্থান করছিল। দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার নামাজ পড়তে ওই মসজিদের সামনে উপস্থিত হলে হামলার ঘটনা শুনে নিরাপদ স্থানে সরে যান। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, এখন আমরা যত রাস্তা করছি কোথাও আর চৌরাস্তার মোড় থাকবে না। এটাকে ওভারপাস করে নিয়ে যাব, সেটা সড়ক ও রেল সব জায়গায়Ñ যাতে যোগাযোগ কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় এবং যানজট না হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো ঢাকা-সিলেট সড়কটিও চার লেনের করে দিতে সরকার প্রকল্প নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ব্রিজ এবং ওভারপাসগুলোও যেন চার লেনের হয়, সেই ব্যবস্থা তার সরকার নিচ্ছে। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার বিষয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওবায়দুল কাদের সুস্থ হয়ে ফিরলে তাকে সঙ্গে নিয়েই কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু দেখতে যাব। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াশো ইজুমি ও জাইকার স্থানীয় প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY