এনজিওর ঋণের কাছে এবার হেরে গেল মাতৃত্বও

0
7

রেহেনা আক্তার তার ১১ মাস বয়সী সন্তানকে অপহরণ করার দায়ে থানায় মামলা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই পড়ে গেছেন মামলার ফাঁদে, হয়ে গেছেন আসামি। কারণ মামলার তদন্তকালে বেরিয়ে আসে ৩০ বছর বয়সী এই নারী তার নাড়িছেঁড়া ধনকে বিক্রি করে দিয়ে অপহরণের মিথ্যা নাটক ফেঁদেছেন। কেন একজন মা এমন কা- করলেন? এ রহস্যের চাদর সরাতেই বেরিয়ে এসেছে আরেকটি তথ্য, এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন দরিদ্র রেহেনা। কিন্তু সে ঋণ শোধ করতে পারছিলেন না বলে বেশ চাপে ছিলেন। একপর্যায়ে অনন্যোপায় হয়েই তিনি কোলের শিশুকে বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকায় ঋণ শোধ করেন। ঋণ শোধ করতে মাতৃত্ব বিসর্জন দেওয়ার এ ঘটনাটি ঘটেছে ফেনীতে। আর গত রবিবার মধ্যরাতে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কালারাইতা গ্রামের খামারবাড়ি থেকে বিক্রি করা ছেলেশিশুটি উদ্ধার করা হয়; আটক করা হয় মা রেহেনাসহ ৩ নারীকে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রণজিৎ কুমার বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটককৃতরা হলেন- কুমিল্লার লাঙ্গলকোট উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৩০), তার ভাগ্নি পারভীন আক্তার (২২) ও মাফিয়া আক্তার (৪০)। গত ২০ সেপ্টেম্বর রেহেনা ফেনী থানায় এক মামলায় অভিযোগ করেন, স্বামীর বাড়ি থেকে ফেনীর আমিনবাজার এলাকায় বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে ফেনীর মহিপাল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে তার ১১ মাস বয়সী ছোট ছেলে অপহৃত হয়েছে। আটক করার পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রেহেনা স্বীকার করেছেন, এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে রেহেনা তার ছেলেকে পারভীনের কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এ বিষয়ে রেহেনার রাজমিস্ত্রি স্বামী আলাউদ্দিন বলেন, আমার অগোচরে রেহেনা ছেলেকে বিক্রি করে অপহরণের নাটক সাজিয়েছে। রেহেনা ঋণ নিয়ে তার ভাইকে দিয়েছে। টাকা নিয়ে তার ভাই কী করেছে তা জানি না। তবে রেহেনা বলছে টাকা হারিয়ে গেছে। তিনি তার স্ত্রীসহ এ ঘটনার জন্য দায়ী সবার বিচার চেয়েছেন। এ বিষয়ে ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী বলেন, অপহরণের মামলাটি সাজানো হওয়ায় সেটি বাতিল হবে। শিশু বিক্রির ঘটনাটি ফেনীতে না হওয়ায় মামলা ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY