জিসানকে ফেরাতে ঢাকার উদ্যোগ, আছে জটিলতাও

0
13

পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ মন্টিকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তারের খবর এরই মধ্যে বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ। তবে জিসান ভারতসহ অন্তত দুটি দেশের নাগরিক হওয়ায় তাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী বাংলাদেশের নাগরিক এবং দাগী আসামি- এ বিষয়ে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে তাকে দুবাই থেকে সরাসরি ঢাকায় ফেরানো সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে জিসানের কাছে যে দুই দেশের পাসপোর্ট পাওয়া গেছে তাদের কেউ তাকে ওই দেশে ফেরাতে চাইলে বিপত্তিতে পড়বে ঢাকা। পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকায়, জিসানকে দেশে ফেরানো কঠিন। এ জন্য সব প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ নিয়ে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল দ্রুত দুবাই যেতে পারে। এদিকে গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, দুবাইয়ে জিসান গ্রেপ্তার হয়েছেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে সেখানকার পুলিশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জিসানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়েছে। গতকাল আমাদের সময়সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে জিসান গ্রেপ্তারের সংবাদটি ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে সকালে পুলিশ সদর দপ্তরও বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়। পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) জানিয়েছে, জিসানকে ফেরাতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সে জন্য তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা করছে ডিবি পুলিশ। এরই মধ্যে ২০০৩ সালে ঢাকার মালিবাগের একটি হোটেলে দুই ডিবি পুলিশ হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার নথি এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যগুলো আরব আমিরাত পুলিশকে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (এনসিবি) মহিউল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, জিসানকে ঢাকার কাছে হস্তান্তর করতে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে চাওয়া হয়েছে। তাই ভারত কিংবা ডমিনিকান রিপাবলিক নিয়ে চিন্তার প্রয়োজন নেই। আরব আমিরাত তাদের কাছে আসামিকে হস্তান্তর করবে বলে আমরা মনে করি না। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব তাকে ফিরিয়ে আনব। আরব আমিরাত পুলিশ জিসান সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের কাছে তথ্য চেয়েছিল। ডিবি পুলিশের সহায়তায় আমরা সেগুলো পাঠানোর পর তারা জিসানের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে জানিয়েছে। ইন্টারপোলের নোটিশটি আরও জোরালো করার জন্য আমাদের অনুরোধ করে। জিসানের নাম বরাবরই ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টের তালিকায় ছিল। সম্প্রতি তার বিষয়ে আরও জোরালোভাবে খোঁজখবর শুরু হয়। এর পরই আরব আমিরাত পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আলী আকবর চৌধুরী নামে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট বহন করছে জিসান। ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের একটি অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরুর পর, তাদের সঙ্গেও জিসানের যোগাযোগ ছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে এ সন্ত্রাসীর দুবাই অবস্থানের বিষয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর আমাদের সময়ে খবর প্রকাশিত হয়। এআইজি মহিউল ইসলাম জানান, জিসানকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে দুমাস আগে থেকে এনসিবি দুবাইয়ের সঙ্গে এনসিবি ঢাকা যোগাযোগ শুরু করে। ডিবি পুলিশ থেকে জিসানের সাম্প্রতিক ছবি ও তথ্য পাঠানোর পর তারা জিসানকে শনাক্তের কাজ শুরু করে। এর পর দুবাই এনসিবি ঢাকাকে জানায়, তারা জিসানকে নজরদারির মধ্যে রেখেছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য এনসিবি দুবাই জিসানের সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য চায় এবং ঢাকাকে জানানো হয়, জিসান ভিন্ন নাম ব্যবহার করে দুবাইতে আছে। একই সঙ্গে অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। এ তথ্য জানার পর সেগুলো যাচাই করা শুরু হয়। তিনি আরও বলেন, জিসান ভারতীয় পাসপোর্টধারী। সেই পাসপোর্টে তার নাম আলী আকবর। ওই পাসপোর্ট পরীক্ষার পর এনসিবি দুবাই ফের জানায়, জিসানের কাছে ডমিনিকান রিপাবলিকের পাসপোর্টও রয়েছে। পরবর্তীতে ডমিনিকান রিপাবলিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, এ নামে কোনো পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি।

LEAVE A REPLY