মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অনলাইন ক্যাসিনোর পেমেন্ট!

0
27

অনলাইন ক্যাসিনোর অর্থ লেনদেনে ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার ও মোবাইল ব্যাংকিং অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এসব টাকা নির্দিষ্ট ইন্টারনেট গেটওয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি অনলাইন ক্যাসিনো কিং সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে নেমে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। তদন্তে একের পর এক অনলাইন গেটওয়ের সন্ধান মিলছে। এসব গেটওয়েতে ক্যাসিনোর বিপুল পরিমাণ মুদ্রা পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইন ক্যাসিনোর এভাবে অর্থ লেনদেন হওয়াকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য এক ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো না হলে এ ধরনের মানিলন্ডারিং ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। সূত্র জানায়, অনলাইন ক্যাসিনোর টাকা পাচারের লক্ষ্যে সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলও ব্যবহার করা হতো। এমন তিনটি ব্যাংকের নামও ইতোমধ্যে উঠে এসেছে। এ ব্যাংকগুলোর সব ধরনের লেনদেন পর্যালোচনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো। এ তিনটি ব্যাংক ছাড়া দেশি-বিদেশি আর কোন কোন ব্যাংক এ টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িত, সেটিও খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিট। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা আমাদের সময়কে বলেন, অনলাইন ক্যাসিনোর যত লেনদেন হয়, এর বেশির ভাগই মোবাইল ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে হয়। ক্যাসিনোর অনেক নেটওয়ার্ক সাইট আমাদের দেশে বন্ধ হয়েছে। তার পরও মানুষ খেলতে পারছে। কারণ অ্যাপস ভার্সনটা বন্ধ করতে পারেনি সরকার। অ্যাপসগুলো সরকার নিজস্ব গেটওয়ে দিয়ে আটকে রাখতে পারে না। আপনি অ্যাপস ছাড়াই খেলছেন। আপনার তো চিপস লাগবে। কীভাবে পাবেন? টাকা পে করলে তারা চিপস পাঠিয়ে দেবে। মানিলন্ডারিং যে পদ্ধতিতে সংঘটিত হয়, ক্যাসিনোর অর্থ লেনদেনও একই পদ্ধতিতে হয়। তিনি আরও বলেন, ‘এখানে এ লেনদেনের অনেক ক্ষেত্রে গেটওয়েটা ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের মানিলন্ডারিংয়ে জড়িতদের বের করতে গেলে প্রযুক্তি দক্ষতা বাড়াতে হবে সরকারকে।’ র‌্যাবের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত বেশ কয়েক ইন্টারনেট গেটওয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর প্রতিটিতেই বিপুল পরিমাণ টাকা মিলছে। এসব টাকা অনলাইন ক্যাসিনো থেকে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হচ্ছে। তবে প্রতিদিন ঠিক কী পরিমাণ টাকা অনলাইন ক্যাসিনো বাণিজ্যে ব্যয় হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব মেলাতে পারছেন না কেউ। অনলাইনে প্রকাশ্যে অনেকটা বিজ্ঞাপন দিয়েই চলে আসছিল অনলাইন ক্যাসিনোবাণিজ্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, সেলিম প্রধান অনলাইনে ক্যাসিনোবাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয়ের তথ্য জানিয়েছেন। এসব টাকার অংশ যেত বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পকেটে। তারা টাকার বিনিময়ে সেলিমের অবৈধ কর্মকা-ের সহযোগিতা করতেন। এ ছাড়া সেলিম প্রধানের গুলশানের বাসায় অনেক রাঘববোয়াল যাতায়াত করতেন। কৌশলগত কারণে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করতে চায় না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিট। সেলিম প্রধানের বাসায় যেতেন অনেক নামিদামি মডেলও। বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নিতে তাদের ব্যবহার করতেন সেলিম প্রধান। এর সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণও পেয়েছে তদন্তকারী দল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম আমাদের সময়কে বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং ও ইলেকট্রনিক বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে অনলাইন ক্যাসিনোর পেমেন্টের তথ্য পেয়েছি আমরা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে। এদিকে সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার তদন্তভার চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তর হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে র‌্যাব সদর দপ্তর। দু-একদিনের মধ্যেই তদন্তভার র‌্যাবে ন্যস্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংককগামী একটি ফ্লাইট থেকে সেলিম প্রধানকে নামিয়ে এনে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। অনলাইন ক্যাসিনো গেমিংয়ের প্রধান সমন্বয়ক সেলিম প্রধান বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে তার গুলশানের বাসা ও অফিসে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় বিপুল অর্থ, মদসহ তার দুই সহযোগী আক্তারুজ্জামান ও রোকনকেও আটক করা হয়।

LEAVE A REPLY