শুদ্ধি অভিযানের নেতৃত্বে র‌্যাব নয় : বেনজীর

0
18

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে, আমরা এ অভিযানের লিড এজেন্সি নই। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ অভিযানে জড়িত। র‌্যাব শুধু সহায়ক ফোর্স হিসেবে কাজ করছে। সরকারের নির্দেশে যখন যেখানে প্রয়োজন হবে তাৎক্ষণিক র‌্যাব সেখানে পৌঁছে কাজ করবে। এ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত অন্যসব প্রতিষ্ঠানের হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে।’ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বনানী পূজাম-পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ এ কথা বলেন। দুর্গাপূজা ঘিরে দেশজুড়ে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানিয়ে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘সারাদেশে ৩১ হাজারের বেশি ম-পে পূজা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবে তা উদযাপনের জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পূজাম-পে র‌্যাব সদস্যদের পাহারার পাশাপাশি থাকবে রোবস্ট প্যাট্রলিং (একসঙ্গে অনেকগুলো গাড়ি নিয়ে টহল)। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমাদের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে সুইপিংয়ের কাজও করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সারাদেশের র‌্যাবের কমান্ডিং ও ক্যাম্প অফিসারদের সঙ্গে পূজা উদযাপন কমিটির বৈঠক হয়েছে।’ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা যেন কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে সে জন্য তৎপর রয়েছে র‌্যাব। পাড়া-মহল্লার মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হবে, সন্দেহভাজন এলাকাতে ব্লক রেইড পরিচালিত হবে।’ পূজাম-পে নারীরা যেন হেনস্তার শিকার না হন, সেই নির্দেশনা দিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘ইভটিজিং স্পষ্টত যৌন হয়রানি। নারীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আমরা লক্ষ্য রাখব। প্রতিমা বিসর্জন হওয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে মনিটরিং করা হবে।’ চলমান অভিযানে যারা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে তাদের কোনো তালিকা করা হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে র‌্যাব ডিজি বলেন- ‘প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিবিরোধী যে উদ্যোগ নিয়েছেন এটা সুদূরপ্রসারী। এর সুফল দেশের মানুষ পাবেন, সার্বিক উন্নয়নে এর প্রভাব পড়বে। শুদ্ধি অভিযানের বিষয়টি অনেক বড় বিষয়। এর সঙ্গে শুধু র‌্যাব ফোর্সেস জড়িত নয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান এ অভিযানে সরকারের নির্দেশে যখন যেখানে প্রয়োজন হবে, তখনই অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে র‌্যাব কাজ করবে।’ সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘ক্যাসিনোর বিস্তারের দায় পুলিশের একার নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে র‌্যাবসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার ওপরও দায় পড়ে।’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘র‌্যাব মাত্র সাতটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করে। আর সর্বশেষ দেওয়া ম্যান্ডেট হলো-সরকার যখন যা নির্দেশ দেবে তাই করা। সে হিসেবে সরকারের নির্দেশনার বাইরে র‌্যাব যেতে পারে না। সুতরাং সরকার নির্দেশিত না হলে, সাধারণত আমরা ম্যান্ডেটের বাইরে গিয়ে কাজ করি না। বিষয়টি আপনারা সবাই জানেন। তাই একজন অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সাবেক ডিএমপি কমিশনারের এ ধরনের মন্তব্য করার কথা নয়, আমি যতটুকু জানি। এটা আসলে আমি জানি না, তিনি বলেছেন কিনা। তিনি হয়তো এভাবে বলেননি। এ বিষয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি সম্রাট কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না বা এখন তিনি কোথায়? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমি স্পেসিফিক কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই না। আমরা ধৈর্য ধরি, সব কিছুর উত্তর পাবেন ইনশাআল্লাহ। শুদ্ধি অভিযানে কারা গ্রেপ্তার হবে, কারা গ্রেপ্তার হবে না সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। যাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদেরই গ্রেপ্তার করা হবে। এর বাইরে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’

LEAVE A REPLY