চিরনিদ্রায় শায়িত আবরার

0
8

দু’চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে কুষ্টিয়ার ছেলে আবরার ফাহাদ ভর্তি হয়েছিলেন দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। আর সেই সেরা বিদ্যাপীঠ থেকেই লাশ হয়ে কুষ্টিয়ায় নিজের বাড়ি ফিরলেন তিনি। এরপর চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন পারিবারিক কবরস্থানে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় পারিবারিক কবরস্থানে আবরারের দাফন সম্পন্ন হয়। তার আগে সকাল ১০টায় কুষ্টিয়ার রায়ডাঙ্গা গ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে আবরারের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আবরারের জানাজায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক অংশ নেন। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের উপস্থিতে কানায় কানায় ভরে যায় ঈদগাহ ময়দান। জানাজায় সমবেতদের উদ্দেশে কথা বলেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্‌। এসময় অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। জানাজা শেষে এলাকাবাসী আবরারের খুনের বিচার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঈদগাহ ময়দানের পাশে ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় খুনিদের ঠাঁই নাই/ শেখ হাসিনার বাংলায় খুনিদের ফাঁসি চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায় তাদের। এর আগে গতকাল সোমবার বুয়েট প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় আবরারের। এরপর আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টায় কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের আল-হেরা জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, গত রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বিশ্ববিদ্যালয়ের বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। এদিকে আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় হত্যা একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা বরকতুল্লাহ। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। আর আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ১১ নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

LEAVE A REPLY