ভিসি কোথায়, খুঁজছেন শিক্ষার্থীরা

0
18

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর আজ মঙ্গলবারও ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে। গতকাল সোমবার থেকেই তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। এদিন শেরে বাংলা হলে ছুটে যাওয়া প্রত্যেকেই উপচার্যের অনুপস্থিতিতে বিস্মিত হয়েছেন। সবার একটাই প্রশ্ন, ‘ভিসি কোথায়?’ সোমবার উপচার্যকে মোবাইলে কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এ নিয়েই তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র খুন হওয়া এবং এরপর উত্তাল ক্যাম্পাসে প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তির অনুপস্থিতি তাদের অবাক করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিলে ভিসির বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন তারা। জানা গেছে, আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তার সহপাঠী থেকে শুরু করে সবাই। তবে সেখানে ছিলেন না বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এমনকি আবরারের জানাজাতেও তাকে দেখা যায়নি। এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে উপাচার্যকে মুঠোফোনে কল দেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাফর ইকবাল খান। তখন উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) কল রিসিভ করেন। তিনি জানান, উপাচার্য অসুস্থ। এজন্য ক্যাম্পাসে আসতে পারবেন না। এদিকে আবরারের হত্যার বিচারে আট দফা দাবি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- আবরারের খুনিদের ফাঁসি দেওয়া, ৭২ ঘন্টার মধ্যে জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার করা, মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দিতে হবে, উপাচার্যকে পাঁচটার মধ্যে ক্যাম্পাসে আসতে হবে, আবাসিক হলে ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্যাতনে জড়িতদের বিচার করতে হবে, আগের ঘটনাগুলোয় জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে, শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করতে হবে। উল্লেখ্য, গত রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতিসহ কমিটির ১১ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

LEAVE A REPLY