ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় সবাই

0
6

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা বুধবার সারাদিন প্রকম্পিত হয়েছিল ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী সবাই এই দাবিতে একাট্টা ছিলেন। গতকাল বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ দাবি নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মিলিত হতে থাকেন বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। বিকাল ৪টায় সেখানে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা। ছাত্রীরা এ সময় নারী সমাবেশ করে এমন ঘটনার ইতি দাবি ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি চান। এ দিন বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এরপর বেলা ১২টায় মানববন্ধন হয় ইতিহাস বিভাগের। ছাত্রী হলগুলোর নারী সমাবেশ: বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের রোকেয়া হল, বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হল, শামসুন্নাহার হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ও কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীদের সমন্বয়ে নারী সমাবেশ শেষে মোমবাতি প্রজ্বলন ও মিছিল করা হয়। সমাবেশে সংহতি জানান সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান কাবেরি গায়েন, প্রভাষক মার্জিয়া রহমান, সহযোগী অধ্যাপক কাজলী শেহেরীন ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুত্ফা প্রমুখ। এ সময় অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ‘ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য আমাদের দেশের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মনোভাব ও চলমান সংস্কৃতি সমানভাবে দায়ী।’

সমাবেশ থেকে ৮ দাবি: 

সমাবেশে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) তানজিমা সোমা ৮ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—দেশে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের দ্রুত বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে, দেশের সব আদালতে নারী নিপীড়ন সেল গঠন করে ধর্ষণের মামলার বিচার সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে করতে হবে, টিএসসি থেকে সুফিয়া কামাল হল, গণতন্ত্র তোরণ থেকে সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউট পর্যন্ত ল্যাম্পপোস্ট ও সিসি ক্যামেরা দিতে হবে, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের নিজস্ব ইস্যু নিয়ে কনসাল্ট করার জন্য চার/পাঁচ জন মহিলা টিচার দিয়ে ফিমেল উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে হবে। এরা প্রয়োজনে আইনি সহায়তা দেবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের যে কোনো আইনি সহায়তার খরচ বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করতে হবে, ক্যাম্পাস থেকে ভবঘুরে, নেশাখোর ও পাগলদের অপসারণ করতে হবে, ক্যাম্পাসের বাস স্টপেজগুলোর নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনা করা ও ছাত্রীদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, জরুরি ক্ষেত্রে অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে অবস্থান করতে দিতে হবে।

দ্রুততম সময়ে বিচার চান উপাচার্য: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা লজ্জিত, মর্মাহত যে, আমাদের একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষকের প্রতি আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা সবাই সংক্ষুব্ধ। সবাই ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। উদ্দেশ্য একটাই, ধর্ষকের দ্রুততম ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।’

আইনের পরিবর্তন চান শিক্ষক সমিতি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘শিশু ও নারী নির্যাতন আইনের সংস্কার প্রয়োজন। যদি মানবতাবাদী অপরাধের জন্য একজন রাজাকারের ফাঁসি হয়, তাহলে ধর্ষকেরও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত।’

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজের চেয়ারপারসন ড. সানজিদা আক্তার, যুগ্ম সম্পাদক জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জিনাত হুদা প্রমুখ।

সুস্থ আছে আহত ছাত্রী: ধর্ষণের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আগের চেয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘মেয়েটি হাসপাতাল থেকে চলে যেতে চায়। চিকিৎসকদের অনুমতি পেলে আগামীকাল মেয়েটিকে ডিসচার্জ (ছাড়পত্র দেওয়া) করার পরিকল্পনা আছে। ভিকটিম থাকে মৃত্যুর কাছাকাছি, ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড নয় কেন? ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেছেন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় না কেন? অথচ যিনি ভিকটিম সেতো ট্রমায় (মানসিক আঘাত) মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যায়। তাই ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। এদিকে বিকাল ৩টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘পালটা আঘাত’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করে ছাত্র ইউনিয়ন। আয়োজনে বিশিষ্টজন সৈয়দ আবুল মাকসুদ বলেন, ‘একটি সভ্য সমাজে এই ধরনের ব্যাপক নারী নির্যাতন ঘটতে পারে না। আজকে বাংলাদেশে নানামুখী উন্নয়ন হচ্ছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। এর কোনো কিছু আমাদের জাতিকে মহিমান্বিত করতে পারে না, যদি নারীদের ওপর অত্যাচার বন্ধ না হয়।’

LEAVE A REPLY