প্রবল বিক্ষোভের মুখে কলকাতায় মোদি

0
3

নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় কয়েক মাস ধরেই উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ। এর মধ্যেই গতকাল শনিবার কলকাতায় দুদিনের সফরে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনুমিতভাবেই প্রবল বিক্ষোভের মুখেই পড়তে হয়েছে তাকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে অংশ নিলেও সেখান থেকে বেরিয়েই বসলেন ধর্নায়। এ বৈঠক নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুললে মমতা বলেছেন, সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তিনি মোদিকে স্বাগত জানিয়েছেন, বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বিতর্কিত আইন দুটি বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। খবর : আনন্দবাজার অনলাইন। কলকাতা বন্দরের দেড়শ বছরপূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এ সফর করছেন মোদি। কলকাতায় পা রাখার আগে তিনি টুইট করেন, ‘আমি আনন্দিত যে আজ এবং আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গে কাটাব।’ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও এনপিআর বিরোধী আন্দোলনে পশ্চিমবঙ্গ তথা মমতার তৃণমূল কংগ্রেস সবচেয়ে এগিয়ে। সিএএ পাস হওয়ার পর এই প্রথম কলকাতায় সফর করছেন নরেন্দ্র মোদি। এ সফর ঘিরে কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছিল শহরে। গতকাল দুপুরের আগেই রাস্তায় রাস্তায় শুরু হয় বিক্ষোভ। এর মধ্যেই বিকাল ৪টায় দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর বিমান। প্রবল বিক্ষোভের কারণেই সড়কপথ এড়িয়ে মোদিকে হেলিকপ্টারে করে রেসকোর্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে গাড়িতে যান রাজভবনে। রেসকোর্স থেকে মোদির গাড়িবহর রাজভবনে ঢোকার পথ আগে থেকেই জনশূন্য করে রেখেছিল পুলিশ। রাজভবনেই মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা। একান্তে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন দুজনে। রাজভবন থেকে বেরোনোর পথে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন মমতা। সেখানে সাংবাদিকদের জানান, কেন্দ্রের কাছে আমার ২৮ হাজার কোটি টাকা পাওনা আছে। আমি সেই টাকা চেয়েছি। সিএএ, এনপিআর ও এনআরসি প্রত্যাহারেরও দাবি তুলেছেন জানিয়ে মমতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, তিনি (মমতা) দিল্লি গেলে এ নিয়ে কথা হবে। রাজভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে মমতা যান রানি রাসমণি রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ধর্নামঞ্চে। সেখানে তিনি বলেন, এই বাংলা থেকেই শুরু হয়েছিল এনআরসি-বিরোধিতা। আমি শেষ দিন পর্যন্ত এর বিরোধিতাই করে যাব। একই সময়ে নরেন্দ্র মোদি যান ওল্ড কারেন্সি বিল্ডিংয়ের একটি অনুষ্ঠানে। সেখানে বক্তব্য শুরু করেন ‘আমার সোনার বাংলা’ বলে। এর পর যান মিলেনিয়াম পার্কে। সেখানে ছিলেন মমতাও। মোদির সফর ঘিরে কলকাতার কেন্দ্র ধর্মতলা ছিল জনারণ্য। ছাত্র-যুব থেকে অশীতিপর বৃদ্ধাও ‘মোদি গো ব্যাক’ প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হয়েছিলেন সেখানে। জাতীয় পতাকার পাশাপাশি কালো পতাকা ও কালো বেলুনে ছেয়ে যায় ধর্মতলার আকাশ। এনআরসি, সিএএ ও এনপিআরের বিরুদ্ধে সেখানে পথনাটিকাও হয়। কোনো প্রধানমন্ত্রীর সফরে সাম্প্রতিক অতীতে কলকাতায় এমন বিক্ষোভের নজির নেই।

LEAVE A REPLY