কেউ নাগরিকত্ব হারাবে না

0
14

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুদিনের সফরে গেছেন পশ্চিমবঙ্গে। গতকাল সফরের শেষ দিন কলকাতায় তিনি বলেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে না। তিনি এ বিষয়ে ভুল বোঝানোর জন্য বিরোধীদের দোষারোপ করেন। এর আগে শনিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন। তিনি মোদিকে সিএএ, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি কার্যকর না করার আহ্বান জানান। খবর এনডিটিভি। জনতার উদ্দেশে মোদি বলেন, আপনারা কী মনে করেন, বিরোধীরা কেন বিষয়টি বুঝতে চান না। এমনকি সবকিছু পরিষ্কার করার পরও তারা জনগণকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। গোটা বিশ্ব এখন জানে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নৃশংস নির্যাতন করা হচ্ছে। ৭০ বছর থেকে তারা এ নির্যাতন সহ্য করছে। কাজেই সংশোধিত নাগিরকত্ব বিল শুধু তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কথা বলা হয়নি। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে গত শনিবার কলকাতায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করে বিক্ষোভে যোগ দেন। দুই দিনের কলকাতা সফরে মোদি নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে বিজেপির পূর্বসূরি হিসেবে পরিচিত ভারতীয় জন সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে কলকাতা নদীবন্দরের নামকরণ করেছেন। গতকাল তার ঘোষণার পর থেকে কলকাতা বন্দর ট্রাস্টের নতুন নাম শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর হলো। প্রসঙ্গত, বিজেপি সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) বিরুদ্ধে ভারতে যেসব রাজ্য সোচ্চার হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সেগুলোর অন্যতম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকে এ দুটি ইস্যুর বিরুদ্ধে অনঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তার রাজ্যে এসব কার্যকর হবে না। সিএএতে বলা হয়েছে, ভারতের প্রতিবেশী দেশ (বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান) থেকে অমুসলিম সংখ্যালঘু কেউ যদি ভারতের কাছে আশ্রয় চায়, তা হলে ভারত তাকে নাগরিকত্ব দেবে। আইনটি মুসলিমবিরোধী, সাম্প্রদায়িক ও অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রবল জনমত তৈরি হয়েছে।

LEAVE A REPLY