বিচারের জন্য প্রস্তুত আবরার হত্যা মামলা

0
1

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী (২২) হত্যা মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বিচারিক আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন সিএমএম আদালত। মামলাটিতে পলাতক চার আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য ছিল। যা আজই দাখিল হয়। তাই মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম নথি বিচারিক আদালতে পাঠাতে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহেই নথি মুখ্য মহানগর হাকিমের স্বাক্ষর হয়ে বিচারিক আদালত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হবে। এদিকে মামলায় চারজন আসামি পলাতক থাকলেও গতকাল রোববার আসামি মোর্শেদ অমত্য ইসলাম আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাওয়ায় এখন তিন জন পলাতক আছেন। ওই তিনজন হলেন, বুয়েটের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র মুহাম্মাদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান (২২), বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম (২০) ও বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র মুজতবা রাফিদ (২১)। এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান আদালতে দাখিল করেছেন। কারাগারে থাকা অপর আসামিরা হলেন, বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার, উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররেফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, মো. মনিরুজ্জামান মনির, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, শিক্ষার্থী মো. মুজাহিদুর রহমান ও এএসএম নাজমুস সাদাত, বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, ছাত্রলীগ কর্মী মুনতাসির আল জেমি, গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইসাতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শাসছুল আরেফিন রাফাত, আকাশ হোসেন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা ও এস এম মাহমুদ সেতু। যাদের মধ্যে প্রথম আট জন আদালতে স্বীকারোক্তি করেছেন। প্রসঙ্গত, আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। তিনি বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলার ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। গত বছরের ৬ অক্টোবর একই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। রাত ৩টার দিকে হল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর তার বাবা বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

LEAVE A REPLY