যানজট নিরসনে হচ্ছে পার্কিং নীতিমালা

0
17

ঢাকা মহানগরীতে যানবাহন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যত্রতত্র পার্কিংয়ের প্রবণতা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। এ সমস্যা সমাধানে পার্কিং নীতিমালা করেছে সরকার। খসড়া নীতিমালাটি চূড়ান্ত করতে স্টেকহোল্ডারসহ সর্বসাধারণের মতামত নিচ্ছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পার্কিং নীতিমালার আওতায় গাড়ি রাখতে হবে। পার্কিংয়ের ধরন অনুযায়ী গুনতে হবে ফি। নীতিমালাটি অনুমোদন পেলে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলা এলাকা এর আওতাভুক্ত হবে। নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের হার কমবে বলে ধারণা করছে ডিটিসিএ। কারণ যেখানে-সেখানে গাড়ি রাখলে বিপুল পরিমাণ জরিমানা গুনতে হবে। তাই ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারে আগ্রহী হবেন সাধারণ মানুষ। এ কারণে গণপরিবহনের পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। পার্কিং নীতিমালার ব্যাপারে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, প্রত্যেক উন্নত শহরে পার্কিং পলিসি আছে, যা এখনো আমাদের নেই। গাড়ির চাপ ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে যানজট বাড়ছে। এর সমাধানে নীতিমালার খসড়া করা হয়েছে। শিগগির তা চূড়ান্ত করা হবে। পার্কিং ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে যানবাহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে চায় সরকার। পার্কিং সুবিধা চালু করতে এ নীতিমালার আওতায় তহবিল গঠন করা হবে। সরকারি, করপোরেট ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় পার্কিং অবকাঠামো নির্মাণ এবং এ-সংক্রান্ত সুবিধা প্রণয়নে কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। গণপরিবহন ব্যবস্থা উৎসাহিত করার মাধ্যমে ব্যক্তিগত যানবাহন কমানোর চেষ্টা করবে ডিটিসিএ। যেসব এলাকায় পার্কিংয়ের চাহিদা জোগানের চেয়ে কম, সেসব এলাকায় পার্কিংয়ের জন্য স্থান চিহ্নিত করে পার্কিং ব্যবস্থা করা হবে। এ ধরনের পার্কিংয়ের জন্য স্থানীয় সড়ক বা শাখা সড়ক ব্যবহার করা যেতে পারে। আর পার্কিং চাহিদা জোগানের চেয়ে বেশিÑ এমন এলাকায় সময় নির্ধারণ করে পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে। এ ক্ষেত্রে ফি আদায় করা হবে। রাজউক, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অধিভুক্ত এলাকার জন্য জরিপের মাধ্যমে পার্কিংয়ের চাহিদা নিরূপণ করে জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এ জন্য ডিটিসিএর অনুমতি লাগবে। তা ছাড়া আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান, হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কারখানা, প্রশাসনিক এলাকা, রেলস্টেশন, টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, বিমানবন্দর, পার্ক, স্টেডিয়াম, পিকনিক স্পট ইত্যাদি স্থানের পার্কিংয়ের জন্য ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। পার্কিং লট নির্মাণে সমতল, বহুতল এবং ভূগর্ভস্থÑ এ তিন প্রকারের ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যবস্থা হিসেবে সুবিধাজনক স্থানের বর্তমান সুবিধা বজায় রেখে পার্কিং লট হিসেবে পুনর্নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। নির্ধারিত স্থানে স্বল্পকালীন পার্কিং সুযোগ থাকবে স্টেশন, টার্মিনাল, অফিস, বিপণিবিতান, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায়। বাণিজ্যিক পরিবহন যেমন- বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওয়াটার ট্যাঙ্কার, লরি ইত্যাদি যানবাহনের জন্য রাত্রীকালীন পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে নির্ধারিত ফির বিনিময়ে। নির্ধারিত কোনো এলাকায় জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহৃত যানবাহন, সাইকেল, রিকশা-ভ্যান ইত্যাদির জন্য চিহ্নিত স্থানে পার্কিং সুবিধা থাকবে। জনবহুল, ঘনবসতিপূর্ণ, বাণিজ্যিক বা প্রশাসনিক ব্যস্ত এলাকায় বিবেচনা করা হবে মাল্টিলেভেল পার্কিং লটের সুবিধা। গণপরিবহনের বিভিন্ন স্টেশনে এবং বাস রুটের স্টপেজ ‘প্যারা ট্রানজিট টার্নিং’ এবং সাময়িক অবস্থানের জন্য সুবিধাজনক এবং সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হচ্ছে। ট্যাক্সি, সিএনজিচালিত অটোর জন্য স্বল্পকালীন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে টার্মিনাল, ডিপো এলাকায়। বিমানবন্দর ও স্টেশনে পার্ক অ্যান্ড রাইড সুবিধার ব্যবস্থা প্রবর্তন করছে সরকার। কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক, খেলাধুলার স্থানসহ বিনোদনকেন্দ্রে ছুটির দিনে প্রশস্ত রাস্তার উভয় দিকে ন্যূনতম পার্কিং ফি নির্ধারণ করা হতে পারে। রাস্তায় অবৈধ পার্কিং বন্ধে ট্রাফিক পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তা ছাড়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পার্কিং এনফোর্সমেন্ট সেল থাকবে। পার্কিং স্থানের ধারণক্ষমতা, সময়কাল, ফি ইত্যাদির বিবরণ সাইনবোর্ড এবং ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে। পিক পিরিয়ড, অফ পিক পিরিয়ড, কর্মদিবস, ছুটির দিন ইত্যাদির জন্য ভিন্ন ভিন্ন পার্কিং ফি থাকবে। রাস্তার ওপর অন-স্ট্রিট পার্কিং ফি বেশি থাকবে। প্রি-পেইড স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে ফি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বহুতল পার্কিং সুবিধার চারপাশে ৫০০ মিটার (৫ মিনিটের হাঁটার পথ) অঞ্চলের সব রাস্তা ‘নো-অন স্ট্রিট পার্কিং’ অঞ্চল হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। এ অঞ্চলের মধ্যে পার্কিং করলে দ্বিগুণ হারে ফি আদায় করা হবে। ইজারার মাধ্যমে পার্কিং ফি আদায় করার সুযোগ রয়েছে পার্কিং নীতিমালায়। পার্কিং ফি, ইজারা ফি, জরিমানা ইত্যাদি আদায়ে মাইক্রোচিপ এবং ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। প্রতি ৫ বছর পর পার্কিং বিষয় পর্যালোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে নীতিমালায়।

LEAVE A REPLY