চীনে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় রোবট মোতায়েন

0
11

মহামারি আকার ধারণ করেছে চীনের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭২২ জনে। দুই দশক আগে চীনের মূল ভূখণ্ড এবং হংকংয়ে সার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে এই ভাইরাসের মৃত্যুর হার। এ পরিস্থিতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এবার যোগ করা হয়েছে রোবট। রাস্তার টহল থেকে শুরু করে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য তাদের ব্যবহার করছে চীন। চীনের সংবাদসংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল উহান শহরের প্রধান প্রধান হাসপাতালগুলোতে সাংহাই এন্টারপ্রাইজ দ্বারা নকশা করা ও উৎপাদিত ৩০টি অসংক্রামক রোবট মোতায়েন করা হয়েছে। এসব রোবটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সাংহাই টিএমআইরব এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যান জিং জানান, সাদা রোবটগুলোর ‘মাথায়’ একটি হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড স্প্রেয়ার এবং ‘পেটে’ ৯টি আলট্রাভায়োলেট রশ্মি রয়েছে। মানুষ এবং যন্ত্রপাতির সহাবস্থান থাকা যেকোনো পরিবেশে একাধিক কাজ করতে সক্ষম এসব রোবট। এ ছাড়া নেভিগেশন প্রযুক্তির সহায়তায় এই রোবটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যেকোনো বাধা এড়াতে সক্ষম। বর্তমানে আইসোলেশন ওয়ার্ড, আইসিইউ, নিয়ন্ত্রণ ক্ক্ষ এবং উহান শহরের বড় বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীদের বিভিন্ন সেবা দেওয়ার জন্য এই জাতীয় রোবটগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। গত বুধবার স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ২১টি রোবট এবং ১০টি স্বয়ংক্রিয় বেড অনুদান দিয়েছে চীনের সবচেয়ে বড় রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিয়াসুন। এছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার জন্য সাংহাইয়ের রাস্তা ও পার্কগুলোতে টহল দেওয়া শুরু করেছে বেশ কয়েকটি রোবট। এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতকে (এআই) তাদের প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে চীন সরকার। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। মহামারির আশঙ্কায় বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই চীনের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছে। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়া এ ভাইরাস ঠেকাতে চীন-ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

LEAVE A REPLY