আজ আমাদের ফাইনাল আজ ইতিহাস লেখার দিন

0
14

দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমকে বলা হয় ক্রীড়ানগরী। সারা বছর ক্রিকেট, সকার (ফুটবল), রাগবি, ভলিবলসহ অসংখ্য খেলোয়াড়ের পদচারণায় মুখর থাকে শহরটি। চমৎকার আবহাওয়া, মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ক্রীড়ার জন্য পর্যাপ্ত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকায় ক্রীড়ামোদীদের পছন্দের শহরও। এ পচেফস্ট্রুমের সেনওয়াস পার্কের স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেই ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। এখানে বেসক্যাম্প ছিল তাদের। এ ছাড়া অবসর সময় পেলে এখানে ছুটে আসে ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের অনেক দেশের খেলোয়াড়রা। এই পচেফস্ট্রুমের মাঠটি এখন যেন নিজেদের করে নিয়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা! এই মাঠে একের পর এক ম্যাচে মনোমুগ্ধকর পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে যাচ্ছেন মাহমুদুল, রকিবুল, তৌহিদ হৃদয়, শরিফুলরা। গ্রুপ পর্বে সেরা হওয়ার পর কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায়। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হাারিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার ইতিহাস গড়েছেন যুবারা। এবার সামনে বিশ্বজয়ের হাতছানি। আজ ফাইনালের মঞ্চে প্রতিবেশী ভারতকে হারাতে পারলেই ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতবে বাংলাদেশ। সেনওয়ার্স পার্কের স্টেডিয়ামে দুদলের ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায় শুরু হবে। ভারতের সামনে বাংলাদেশ মানেই হতাশার গল্প। হোক সেটি সিনিয়র কিংবা জুনিয়র পর্যায়ের ক্রিকেট। ফাইনাল কিংবা নকআউট ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হলেই হার যেন অবধারিত! মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, তামিমদের ক্ষেত্রে বারবার হৃদয় ভাঙার গল্প রচিত হয়েছে। বড়দের পথ অনুসরণ করে চলেন ছোটরাও। ভারত-জুজু কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা।গত দুই বছরে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ভারতের সঙ্গে তিনটি নকআউট ম্যাচে সাক্ষাৎ হয়েছে বাংলাদেশের। প্রতি ম্যাচেই হেরেছে তারা। ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল, গত বছর ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল এবং শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের ফাইনালে জিততে পারেনি যুবারা। এ ছাড়া যুব বিশ্বকাপের চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নও তারা। তবে এসব দুঃস্মৃতির অতীত পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য মাঠে নামবেন আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপে দুরন্ত বাংলাদেশ। অপরাজেয় থেকে ফাইনালে উঠেছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। দলে রয়েছে একঝাঁক মেধাবী ক্রিকেটার। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ব্যাটিংয়ে নজর কেড়েছেন মাহমুদুল। চোখ ধাঁধানো ব্যাটিং উপহার দিচ্ছেন তানজিদ, তৌহিদরা। হ্যাটট্রিক ও ৫ উইকেট শিকারের দৃষ্টান্ত দেখান রকিবুল। বোলিং বৈচিত্র্যে অনন্য পেসার শরিফুল। তারা বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন নতুন দিগন্তে। আজ আরেকটি নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে যাত্রা করতে চায় তারা। কীভাবে ফাইনালের মঞ্চ রাঙাতে হবে- এ মন্ত্র পেয়ে আছে আকবর আলীদের। বাংলাদেশ-ভারতর ম্যাচ হলে উত্তেজনার বারুদ ছড়ায়। দুই প্রতিবেশী দেশের ক্রিকেট ম্যাচ হয় উপভোগ্য। যুব ক্রিকেটের মহাতাৎপর্যপূর্ণ আসরের ফাইনালে দুই দেশ পরস্পরের বিপক্ষে খেলবে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচটি হবে রোমাঞ্চকর। তবে আবেগ ধরে রেখে মাঠে নামবেন যুবারা। বাড়তি চাপ না নিয়ে স্বাভাবিক খেলা উপহার দিতে পারলেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করা সম্ভব। অধিনায়ক আকবর আলী জানান, ফাইনাল ম্যাচটিকে স্রেফ সাধারণ একটি ম্যাচের মতোই খেলতে চান তারা। ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে ঘরে ফেরার জন্য দলের সবাই মুখিয়ে রয়েছে। যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য তৃতীয় হওয়া। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অনুষ্ঠিত আসরে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে এ কৃতিত্ব দেখায় জুনিয়র টাইগাররা। এবার আকবর আলী নেতৃত্বে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এর আগে মুশফিকরা যে কাজটি করে দেখাতে পারেননি- তা করে দেখিয়েছেন তিনি। আজ ভারত-পরীক্ষাও উতরানোর পণ আকবরের। কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে আকবর-তৌহিদদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মিরাজ। তিনি জানান, ভালো ক্রিকেট খেলবেন আকবররা। বেশ আত্মবিশ্বাসী দলটি। নিজেদের মতো খেলতে পারলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশ। সর্বশেষ পাঁচ ওয়ানডে ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হয়ে একটিতে জিতেছে যুবারা। দুই ম্যাচে হার, একটি ম্যাচের ফল হয়নি এবং আরেকটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল।

LEAVE A REPLY