এক বছরে ধর্ষণের শিকার ৯৪২ জন

২০১৮ সালে নির্যাতিত নারী ও কন্যাশিশুর সংখ্যা এর আগের বছরের তুলনায় কমলেও এর হার উদ্বেগজনক। গত বছর ৩ হাজার ৯১৮ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতিত হয়েছে যেখানে ৯৪২টিই ধর্ষণকা-। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার ১৮২ জন আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যানে এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ এসব তথ্য সংরক্ষণ করেছে। তথ্যমতে, বিদায়ী বছরে বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি। এগুলোর মধ্যে ৫২টি বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে; প্রতিরোধ করা হয়েছে ১৪১টি। আর জোরপূর্বক বিয়ের শিকার হয়েছেন ২১ নারী; ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১২৮ জনকে, শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ৭১ জন। এছাড়া অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ১৯ জন। তাদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন। গেল বছর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ৭৩ নারী ও শিশু। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১৯ জন। ২০১৭ সালে মোট ৫ হাজার ২৩৫ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতিত হয়েছেন। ওই বছর ধর্ষণকা- ঘটেছে ১ হাজার ২৫১টি। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার ২২৪ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫৮ জনকে; ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় আরও ১৮০ জনকে। এছাড়া একই বছর শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ৯৩ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ১৬৪ জন। অ্যাসিড সন্ত্রাসের মুখে পড়েছেন ৪০ জন। এর মধ্যে দুজন মারা গেছেন। ৯১ অগ্নিদগ্ধ নারী ও কন্যাশিশুর মধ্যে মারা গেছেন ৩৪ জন। ২০১৮ সালে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে মোট ১৪৫টি। পাচার করা হয়েছে ৪১ নারী ও শিশুকে যাদের মধ্যে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে ১৫ জনকে। ২০১৭ সালে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে মোট ১৪৩টি। নারী ও শিশু পাচার হয়েছে ৯৫ জন। এর মধ্যে ৬০ জনকে পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়েছে। ৪৮৮ নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ৩৯ জনকে। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হন ২১২ নারী, তাদের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ১০২ জনকে। গৃহপরিচারিকা হিসেবে নির্যাতনের মুখে পড়েছেন ৮৭ জন, এর মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৫৮ জনকে এবং নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ৪ জন। উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ১৭১ জনকে, এ কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১৪ জন। আর ফতোয়ার শিকার হয়েছেন ১২ নারী-কিশোরী। বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে গত বছর ৩০৫ নারী ও কন্যাশিশু আত্মঘাতী হতে বাধ্য হয়েছেন। আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন ১৮ জন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়েছেন ৪৭ জন এবং ৩৭৭ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৯ জন। শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে ২৮১ জনকে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু আমাদের সময়কে বলেন, ‘বিচারহীনতার কারণেই ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের হার এতোটা উদ্বেগজনক। এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায় যে, অপরাধী খুবই ক্ষমতাবান। তাই সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসব কা-ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি।