খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আজ চার্জ শুনানি

আজ বৃহস্পতিবার নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে চার্জ গঠনের শুনানি হবে। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এক কর্মকর্তা এবং কানাডীয় মাউন্টেড পুলিশের দুই কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ এবং তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির কারাবন্দি এ নেত্রীর পক্ষে আপত্তি দাখিলের দিনও ধার্য আছে। ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত এজলাসে এসব বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করবেন। এ মামলায় এর আগে গত ৮ ও ৯ নভেম্বর একই আদালতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে অন্য আসামিদের পক্ষে আংশিক চার্জ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। এর পর গত ২২ নভেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এফবিআই ও কানাডীয় পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট এবং তাদের সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন করেন। আদালত সেদিন ৯ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন। এরপর ধার্য তারিখে খালেদা জিয়ার পক্ষে আপত্তি দাখিলের জন্য সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করে ৩ জানুয়ারি আপত্তি দাখিল ও শুনানির দিন ধার্য করেন। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তারেক রহমানের বন্ধু বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বিএনপি সরকারের সময়ের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন ও তৎকালীন সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউছুফ হোসাইন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম), জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হকও এ মামলার আসামি। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটের বৈধতা চ্যলেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট করলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন। ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল ডিচার্জ করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩টি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় বহুজাতিক কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেওয়ায়’ রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে-এ অভিযোগে মামলাটি করা হয়।