শিশুর লাশ উদ্ধারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কিশোর নিহত

যশোরের মণিরামপুরে আবু তারিফ (৯) নামে অপহৃত এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে অপহরণকারী বিল্লাল হোসেন (১৪) বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বলে পুলিশের দাবি। গতকাল ভোরে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ফেদাইপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আবু তারিফ ফেদাইপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। সে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ছিল। অন্যদিকে নিহত অপহরণকারী বিল্লাল একই গ্রামের মোস্তফা ওরফে ঝটুর ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ত। মণিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান বলেন, ‘শিশু তারিফ নিখোঁজের ঘটনায় গত সোমবার থানায় জিডি হয়েছিল। মঙ্গলবার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকায় বিল্লালকে আটক করে পুলিশ। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে সঙ্গে নিয়ে নিখোঁজ তারিফকে উদ্ধারের জন্য খেদাইপুর গ্রামে যাচ্ছিল পুলিশের একটি দল। পথে সাতনল বাজারসংলগ্ন ব্রিজের কাছে পৌঁছলে ওঁৎ পে তে থাকা অপহরণে জড়িত বিল্লালের সহযোগীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় বন্দুকযুদ্ধে আটক কিশোর নিহত হয়।’ তারিফের চাচা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গত রবিবার বিকালে খেলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় তারিফ। তবে সন্ধ্যা হলেও বাড়িতে না ফেরায় পরদিন সোমবার মণিরামপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রতিবেশীরা আমাদের বাড়ির আঙিনায় একটি সাদা কাগজের চিরকুট কুড়িয়ে পায়। তাতে লেখা ছিল আরিফ আমার কাছেই আছে, নিচে একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। পরে প্রতিবেশী এক নারী ওই মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিকালে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামকে বিষয়টা জানালে তিনি ওই নম্বরে কথা বললেন। তখন এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে রাজি হলে একটি বিকাশ নম্বর দেয় অপহরণকারী।’ একপর্যায়ে কৌশলে ওই বিকাশ এজেন্টের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, দোকানটি কেশবপুর থানার সামনে। এর পর বিষয়টি পুলিশকে জানালে ওই নম্বরে টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় অপহরণকারীকে। এর কিছুক্ষণ পর ওই দোকানে টাকা আনতে গেলে আটক হয় বিল্লাল হোসেন (১৫)। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানায় নিহতের পরিবার।