ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েও মামলা নিতে গড়িমসি

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ার হুমকি দিয়ে এক কিশোরী গার্মেন্টসকর্মীকে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সুবলচন্দ্র সিকদার শুভ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ভিডিও ধারণ করেছিল তার দুই বন্ধু মুসা ও হারুণ। গত ২২ জানুয়ারি পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ৪ নম্বর লেনের ১৩ নম্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।এর পর দফায় দফায় ভুক্তভোগী ওই কিশোরী স্বজনদের নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ মামলা না নিয়ে উল্টো নাজেহাল করে বলে অভিযোগ মেয়েটির। অথচ অভিযোগের পরই ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের উদ্ধার করা মেমোরি কার্ডে এই মেয়েটি ছাড়াও আরও কয়েকজনকে ধর্ষণের ভিডিও ছিল বলে জানা গেছে।পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ঘটনার দুসপ্তাহ পর গত সোমবার গভীর রাতে পুলিশ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে ওই ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়। তবে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।বাবাহারা ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, সে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদী এলাকায় রিকশাচালক ভাইয়ের সঙ্গে থাকে। কাজ করে পল্লবীর ৭ নম্বর সেকশনের একটি গার্মেন্টসে। সুবল হিন্দু হলেও মুসলমান পরিচয় দিয়ে প্রায় এক বছর আগে তার সঙ্গে পরিচিত হয়। একপর্যায়ে তারা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে গত বছরের ১৬ এপ্রিল পল্লবীর ১২নম্বর সেকশনের ই-ব্লকের ৫ নম্বর লেনের ১৯ নম্বর বাসায় মেয়েটিকে ধর্ষণ করে সুবল। গোপনে ভিডিও ধারণও করে সে। এর পর সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ার হুমকি দিয়ে দিনের পর দিন মেয়েটিকে ধর্ষণ করে সুবল। মাস চারেক আগে সুবলসহ তার ওই দুই সহযোগী মুসা ও হারুণগণধর্ষণ করে মেয়েটিকে। গত ২২ জানুয়ারি সকালে গার্মেন্টসে যাওয়ার পথে মেয়েটিকে জোর করে ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ৪ নম্বর লেনের ১৩ নম্বর বাড়িতে নিয়ে যায় সুবল। সেখানে সুবল তাকে ধর্ষণ করে; এই চিত্র মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও করে মুসা ও হারুণ। মেয়েটি সেখান থেকে বেরিয়ে বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ সেদিনই ঘটনাস্থল থেকে একটি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করে। এতে এই কিশোরী ছাড়া আরও কয়েকটি মেয়েকে ধর্ষণের ভিডিও রয়েছে বলে জানা গেছে।মেয়েটি আরও জানায়, থানা পুলিশকে পুরো ঘটনা খুলে বললেও তার অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো নানা কটূক্তি করে তাকে নাজেহাল করা হয়। ধর্ষণের আলামত সংগ্রহে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসি সেন্টারে (ওসিসি) না পাঠিয়ে পুলিশ ধর্ষণের সার্টিফিকেট নিয়ে এলে তবেই মামলা নেওয়া হবে বলে জানায়। উপায়ান্তর না পেয়ে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তাদের সহায়তায় মেয়েটিকে ঢামেকের ওসিসিতে পাঠানো হয়। শারীরিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পেয়ে গত সোমবার ওসিসির মেডিক্যাল অফিসার ডা. হোসনে আরা পারভিনের ছাড়পত্র দেন। এটি নিয়ে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েটিকে নিয়ে তার স্বজনরা পল্লবী থানায় আসেন। কিন্তু তখনও মামলা নিতে টালবাহানা করে পুলিশ। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে তার অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। এর আগে দুই দফায় মেয়েটির বক্তব্যসংবলিত এজাহার টাইপ করা হলেও তা কাটাকাটি করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে মেয়েটি ও তার পরিবার।জানা গেছে, হারুন পল্লবীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও নারীঘটিত বিভিন্ন অপকর্মের হোতাদের অন্যতম। এর আগেও পল্লবীর বাউনিয়াবাদে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে জেলে যেতে হয়েছিল তাকে। ডাকাতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। হারুনের বাবার নাম চোরা স্বপন। ডাকাতি করতে গিয়ে এক নারীকে হত্যার অভিযোগে তিনি বর্তমানে কারাগারে। অভিযুক্ত মুসা ও সুবল চন্দ্রও মাদক ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে।মেয়েটির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে পল্লবী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, মেয়েটি কার কাছে কী বলেছে তা জানি না, আমার কাছে বলেছে তাকে একজন ধর্ষণ করেছে। আর ভিডিও ধারণ করেছে অন্য দুজন। মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সেই সময় আমি অসুস্থ ছিলাম তাই বিষয়টি আমি অবগত নই। ঘটনায় জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।