সমমনাদের নিয়ে জোট বাঁধছে সংগঠনগুলো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে চলতি সপ্তাহেই। ১১ মার্চ অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হলপ্রতি দুজন করে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সূত্রমতে, আসন্ন এ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অধিকাংশ ছাত্রসংগঠন। এ ক্ষেত্রে সমমনাদের নিয়ে গড়া হবে জোট।নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রস্তুতিসভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাবি উপাচার্যের অফিস সংলগ্ন আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. এসএম মাহফুজুর রহমান, রিটার্নিং অফিসারবৃন্দ, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভায় নির্বাচনের সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় নির্বাচনের সর্বশেষ অগ্রগতি, প্রস্তুতি ও করণীয় সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করেন প্রধান রিটার্নিং অফিসার। এ সময় তিনি জানান চলতি সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করার কথা।নির্বাচন সামনে রেখে এখন পুরোদমে ব্যস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সভায় ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র এবং নির্বাচনী আচরণবিধি চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন মাত্রা পেয়েছে কাজের গতি; হলগুলোয় অবিরাম চলছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির কাজ। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে-ভোটার অর্থাৎ শিক্ষার্থী অনার্স, মাস্টার্স কিংবা এমফিল পর্যায়ে অধ্যয়নরত কিনা, অধ্যয়নরত হলে তার বয়স ত্রিশের মধ্যে আছে কিনা। পাশাপাশি লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে শিক্ষার্থী সান্ধ্যকালীন, পেশাদারি অথবা বিশেষ মাস্টার্স, ডিপ্লোমা কিংবা বিশেষ কোনো কোর্সে অধ্যয়নরত কিনা। কারণ এসব শিক্ষার্থী প্রার্থী তো নয়ই, ভোটারও হতে পারবেন না।প্রসঙ্গত ২৮ বছরের ব্যবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাই ভোটার তালিকা প্রস্তুতসহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।এদিকে নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতা নির্ধারণ হওয়ার পর বিষয়গুলো নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা। সমমনা ছাত্র সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে তাদের। সর্বত্র এখন আলোচনা প্রার্থিতা নিয়ে। কারা আসছেন দেশের ‘দ্বিতীয় পার্লামেন্ট’খ্যাত ডাকসুর নেতৃত্বে, তা নিয়ে কৌতূহল সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, ইতোমধ্যে সারা দেশে এ নির্বাচন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ফলে ছাত্র সংগঠনগুলোর পাশাপাশি তাদের মূল সংগঠনগুলোরও নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা রয়েছে। সেভাবেই এগোবে ছাত্র সংগঠনগুলো। সবদিক বিবেচনায় রেখে প্যানেল নির্ধারণের কাজ করছে সংগঠনগুলো। এ ক্ষেত্রে শক্ত জোট হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে সমমনা সংগঠনগুলো এক ছাতার নিচে আসতে চাইছে। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ক্যাম্পাসের পরিচিত মেধাবী মুখগুলোকে প্যানেলে রাখার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।ছাত্রলীগ ১৪ দলভুক্ত শরিকদের ছাত্র সংগঠনগুলো নিয়ে জোট করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এ জোট ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে প্রার্থী দেবে। ছাত্রদলও জোটবদ্ধ নির্বাচনের কথা ভাবছে। ক্রিয়াশীল বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সা¤্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য মিলে জোট বেঁধে প্যানেল দিতে পারে। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদও থাকবে নির্বাচনে। তারাও জোটবদ্ধ নির্বাচন করার আভাস দিচ্ছে। এর বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও তাদের পরবর্তী প্রজন্ম মিলে একটি প্যানেল করবে। ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে প্যানেল গঠনে কাজ করছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। টিএসসির সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে ভাবছে; সরব হয়েছে জাতীয় ছাত্রসমাজও।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রালীগ সভাপতি সনজিতচন্দ্র দাস বলেন, স্বাধীনতার পক্ষের ছাত্র সংগঠন যারা আমাদের সঙ্গে আসতে চায়, তাদের নিয়ে আমরা জোট গঠন করব। আর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে তো আমাদের জোট আছেই। প্যানেলের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি, একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে।ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী বলেন, কীভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে ভালো হবে, তা নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার নেতাদের নিয়ে বসেছি। তাদের বক্তব্য শুনেছি। আমরা জোটগতভাবে অংশ নিতে পারি।প্রগতিশীল ছাত্রজোট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, আমরা জোটগতভাবে নির্বাচনে যাব। একটি বৃহৎ ঐক্য গড়ে নির্বাচনে যাওয়ার চিন্তা আমাদের রয়েছে। কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। প্যানেলের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে পরবর্তী সময়ে পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় জোটগতভাবেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারি। তিনি অভিযোগ করেন, আমরা যেন নির্বাচনে অংশ না নিই, সে জন্য আমাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে এবং নানা রকম হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে আমরা নির্বাচন থেকে সরব না নিশ্চিত।