প্রতীকী মামলা করবে বিএনপি

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নানা অনিয়মের অভিযোগে আসনভিত্তিক মামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিএনপি। এখন প্রতিজেলা থেকে একজন করে ধানের শীষের প্রার্থী হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন। এই মামলা করার শেষ তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি। যেসব প্রার্থী মামলা করবেন তাদের সঙ্গে গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্কাইপিতে লন্ডন থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৈঠক করেছেন। বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই বৈঠক চলে।বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, নির্বাচন পরিচালনা বিধি ২০০৮-এর ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনী ফলের গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে। ২ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনের ফলের গেজেট জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়। সে হিসেবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মামলা করতে হবে। মামলার জন্য প্রতিটি জেলা থেকে একজন করে প্রার্থীও ঠিক করা হয়েছে।নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছিলেন প্রার্থীদের মধ্যে ভোলার মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকার ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি, কিশোরগঞ্জের শরিফুল আলম, পটুয়াখালীর এবিএম মোশাররফ হোসেন, বরিশালের জহিরউদ্দিন স্বপন, ঝালকাঠির জেবা আমিনা খান, পিরোজপুরের রুহুল আমিন. দুলাল, মাগুরার নিতাই রায়চৌধুরী, যশোরের অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মেহেরপুর মাসুদ অরুন, মাদারীপুরের আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, হবিগঞ্জের জিকে গউছ, খুলনার আজিজুল বারী হেলাল, কক্সবাজারের লুৎফর রহমান কাজল, মিজানুর রহমান চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাজী মুজিব, ফরিদপুরের শামা ওবায়েদ, রাজশাহীর মিজানুর রহমান মিনু, নোয়াখালীর জয়নুল আবদিন ফারুক, ফেনীর রফিকুল আলম মজনু, মানিকগঞ্জের মাইনুল ইসলাম খান শান্ত, সিরাজগঞ্জে আমিরুল ইসলাম খান আলীম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাজাহান মিয়া, জামালপুরের ওয়ারেস আলী মামুন, নেত্রকোনার ডা. আনোয়ার, ময়মনসিংহের ওয়াহাব আকন্দ, নরসিংদীর মঞ্জুর এলাহীসহ ৭০ জনের মতো প্রার্থী এই বৈঠকে অংশ নেন। উপস্থিত সবাইকে মামলা করতে বলা হয়েছে। হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, সেখানে এই মামলা করতে হবে।বৈঠক শেষে এক প্রার্থী জানান, প্রথমে আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচনে যেসব অনিয়ম হয়েছে তার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে মামলা করবে। এর পর দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হয় এটা কাউকে চাপিয়ে দেওয়া হবে না; দল থেকে কোনো প্রার্থী করতে চায় করতে পারবে। এর পর আবার সিদ্ধান্ত হয় প্রতীকী অর্থে কয়েকটি আসনে করা হবে। কিন্তু গতকাল তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ৬৪ জেলা থেকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে। যারা মামলা করবেন, তাদের ডেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আইনজীবী নিয়োগসহ যাবতীয় খরচ দলের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।বৈঠকে অংশ নেওয়া পাবনা-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আইন অনুযায়ী আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তারা মামলা করবেন। এ বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা জানান। বৈঠকে এক নেতা ছাত্রদলের কর্মকা- নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই নেতা তারেক রহমানকে বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয়সহ সব পর্যায়ের কমিটি গঠন করতে হবে।সূত্র জানায়, এর আগে ধানের শীষের প্রার্থীদের মতামত নেওয়ার পর দলের সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন বিএনপি নীতিনির্ধারকরা। আইনজীবীরাও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা না করার পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শ এবং নানা বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালে মামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিএনপি। একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিষয়ে আইনজীবী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছিল, আদালত থেকে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে না। বরং আইনিভাবে ৩০ ডিসেম্বরের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, আমরা ভেবেচিন্তে মামলা করার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলাম। সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বিএনপির নীতিনির্ধারকদের।