সময়ের সঙ্গে চলতে হলে পরিশ্রমী হতেই হবে

বিদ্যা সিনহা মিম। নজরকাড়া গ্ল্যামার আর অনবদ্য অভিনয়গুণে জায়গা করে নিয়েছেন দর্শক হৃদয়ে। ৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের ৪২ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ছবি ‘দাগ হৃদয়ে’। মুক্তি পাওয়া এ ছবি ও অন্যান্য অনেক প্রসঙ্গে কথা হয় মিমের সঙ্গে।

প্রায় তিন বছর আগে শুরু হয়েছিল ‘দাগ হৃদয়ে’ ছবির শুটিং। এতদিন পর এটি আলোর মুখ দেখল। কেমন লাগছে?অবশ্যই ভালো। প্রত্যেকটা ছবিতে একজন অভিনয়শিল্পীর পরিশ্রম আর ভালোলাগা জড়িয়ে থাকে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেই কেবল আমরা দর্শকের প্রতিক্রিয়া জানতে পারি। তারা যদি ছবি দেখে ইতিবাচক মন্তব্য করেন, তখন মনে হয় কাজটা সফলভাবে করতে পেরেছি।

এ ছবি নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন?গত শুক্রবার এটি প্রেক্ষাগৃহে এসেছে। সবাই জানেন, ওইদিন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনাল খেলা ছিল। স্বাভাবিকভাবেই খেলায় নজর ছিল সবার। তার পরও চলচ্চিত্রপ্রেমী কিছু মানুষ ‘দাগ হৃদয়ে’ দেখেছেন। তাদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির বেশ প্রশংসা করেছেন।

আপনি কোনো সিনেমা হলে গিয়েছিলেন?এখনো যেতে পারিনি। নির্মাতা তারেক শিকদার ও কলাকুশলীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়তই ছবির খোঁজ নিচ্ছি। ইচ্ছা আছে, আগামীকাল (আজ) ঢাকার কয়েকটি সিনেমা হলে যাব। সেখানে গিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া জানব।

ছবিতে আপনার বিপরীতে অভিনয় করেছেন বাপ্পী চৌধুরী। এর আগে আপনাদের জুটির তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এ জুটি নিয়ে বলুন?দর্শক পছন্দ করেছে বলেই নির্মাতারা আমাকে আর বাপ্পীকে নিয়ে বেশ কিছু ছবি নির্মাণ করেছেন। আমরাও চেষ্টা করেছি, নিজেদের সর্ব্বোচটুকু দিতে। আমাদের দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াটা বেশ চমৎকার। তাই খুব সহজেই নিজেদের সেরাটা দিতে পারি।

এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি। খুব অল্প সময়েই আপনি দেশের শীর্ষ নায়িকাদের একজন। অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। রহস্যটা একটু বলবেন?পরিশ্রম। আমি সময়ের বিষয়ে খুব কঠিন। আর সময়ের সঙ্গে চলতে হলে পরিশ্রমী হতেই হবে। যখন যে চরিত্রে অভিনয় করি, সে চরিত্রে নিজেকে এক করে ফেলি। কারণ অভিনয় খুব কঠিন কাজ। এখানে চরিত্র না বুঝলে অভিনয় করা যায় না। আমি নায়িকা। আমার যেমন গ্ল্যামার থাকতে হবে, তেমনি অভিনয়ও জানতে হবে। এর কোনো একটা কম হলে দর্শক আমাকে গ্রহণ করবে না। আর পুরস্কার হচ্ছে ভালো কাজের স্বীকৃতি। আমি পরিশ্রম করেছি, তার ফলও পেয়েছি। তবে পুরস্কারপ্রাপ্তি যে কোনো দায়িত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এখন আমি সেই দায়িত্ব পালন করছি। পারছি কিনা সেটা বলবেন আপনারা, দর্শক ও পাঠক।

অনেকেই বলে ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীরা বড় পর্দায় ভালো করতে পারে না। কারণ ছোট পর্দায় যাকে নিয়মিত দেখা যায় তাকে কেন টিকিট কেটে দেখতে হবে? কথাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করেন?এ কথার কোনো যুক্তি নেই। একজন গুণী অভিনয়শিল্পীর অভিনয় মানুষ সবসময়ই দেখতে চায়। সেটা ছোট পর্দা হোক কিংবা বড় পর্দা। মানুষ কিন্তু এটাও বলেÑ ছোট পর্দার ওই নায়িকা বা নায়ক ছবি করেছে। দেখে আসা দরকার, সে কেমন করল। মানে দর্শক কিন্তু অভিনয়টা দেখতে যায়। যদি আপনি ভালো অভিনয় করেন, তবে কোথাও আপনার দর্শকের অভাব হবে না। অভিনয়শিল্পীরা কিন্তু হরহামেশাই বিজ্ঞাপন করেন। এতে বিজ্ঞাপনের জনপ্রিয়তা কমে না বাড়ে? অবশ্যই বাড়ে। সেই সঙ্গে বাড়ে অভিনয়শিল্পীর ভক্ত। আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী তো কমার কথা। কারণ নাটকের চেয়ে বিজ্ঞাপন তো বেশি প্রচার হয়।

ছোট পর্দায় আবার আপনাকে দেখা যাবে?ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে অবশ্যই নাটক-টেলিছবিতে অভিনয় করব। তবে সেটা বিশেষ দিবসের কোনো কাজ হতে হবে।

সম্প্রতি ‘থাই কারি’ ছবির অভিনয় করলেন। এটি কবে মুক্তি পাবে?অঙ্কিত আদিত্য পরিচালিত এ ছবির শুটিং শেষ। ডাবিং এখনো বাকি। তাই ছবিটি কবে মুক্তি পাবে, নির্মাতাই বলতে পারবেন। এতে আমার বিপরীতে আছেন ওপার বাংলার অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী।