অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর বাজেটের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে গত দুই বছরে রোহিঙ্গাদের পেছনে যে খরচ হয়েছে তাতে ২৫ শতাংশই অভ্যন্তরীণ বাজেট থেকে ব্যয় মেটানো হয়েছে। বাকি ৭৫ শতাংশ বৈদেশিক সহায়তা থেকে এসেছে। এ ব্যয় মেটানো হয়েছে অপ্রত্যাশিত খাত থেকে। ফলে বাজেটের ওপর চাপ বাড়ছে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে অনাকাক্সিক্ষত চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শুধু আলোচনা নয় আন্তর্জাতিকভাবে চাপ তৈরি করতে হবে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান দীর্ঘমেয়াদি হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাজেটে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শরণার্থীদের জন্য বৈদেশিক সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি হয় না। প্রথম দিকে যেভাবে অনুদান আসছিল পরবর্তীতে আস্তে আস্তে সেটা কমে যায়। এ সহযোগিতা বন্ধ হয়ে গেলে দেশের অর্থ দিয়ে তাদের চাহিদা মেটাতে হবে। তখন জাতীয় বাজেটে চাপ সৃষ্টি হবে৬। অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গা খাতে প্রতিবছর সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। গত ২ বছরে রোহিঙ্গা খাতে ১৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এসেছে বৈদেশিক সহায়তা থেকে। বাকি ২৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে। অন্যদিকে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করেছে সরকার। কিন্তু জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর সেখানে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে বিরোধিতা করছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গারাও সেখানে যেতে রাজি নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, আমরা অনেক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। তাই অন্য দেশগুলোকেও আমরা সহায়তার কথা বলতে পারি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি সমাধানে পৌঁছাতে কাজ করছেন তারা। এ সমাধান কোথায় আটকে আছে, তা আপনারাও জানেন, আমরাও জানি। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ফোরামে সব আলোচনার মধ্যে যাতে এ সমস্যাটি (রোহিঙ্গা) উত্থাপন করা হয় সে জন্য তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মন্ত্রী আশা করছেন, তারা ব্যাপক সহায়তা পাবেন যাতে করে সমস্যাটির সমাধান করা যায়।