বাণিজ্যনীতি ঢেলে সাজানো হচ্ছে

ঢেলে সাজানো হচ্ছে দেশের বাণিজ্যনীতি। নতুন নীতিতে বিনিয়োগ আকর্ষণে থাকছে বিশেষ নজর। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি পদ্ধতি, পণ্যের মান, পর্যটন, আইনি পদ্ধতি, সেবা খাত, এমনকি রাষ্ট্রব্যবস্থা কী ধরনের হবে-তা-ও থাকছে এই নতুন বাণিজ্যনীতিতে। এ ক্ষেত্রে এবার প্রধান ও সম্ভাবনাময় অংশীদারদের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে শ্রীলংকার সঙ্গে এফটিএ করার বিষয়টি অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া, তুরস্ক, ভুটান, নাইজেরিয়া, মেসিডোনিয়া, মিয়ানমার, মালি ও মরিশাসের সঙ্গে এফটিএ করা নিয়ে আলোচনা করছে সরকার। এ ছাড়া সম্প্রতি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) কিছু সুপারিশ দিয়েছে। এর প্রতিউত্তরে বাংলাদেশ তার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন, মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উত্তরণ, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আমদানির বিপরীতে রপ্তানি বাড়ানো প্রয়োজন। এ কারণে পৃথিবীর সেরা উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি পৌঁছে দিয়েছে ডব্লিউটিও। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, অধিকতর স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি সমন্বিত বাণিজ্যনীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য শক্তিশালীকরণও। জানা গেছে, বাংলাদেশসহ বর্তমানে ডব্লিউটিওর সদস্যসংখ্যা ১৬৪। এর মধ্যে বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সমাপনী বৈঠক আগামী ৩-৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে জেনেভায় ডব্লিউটিওর প্রধান কার্যালয়ে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী বলেন, এমনভাবে আমাদের বাণিজ্যনীতি ঢেলে সাজানো হয়েছে, যাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়। এটি একটি ধারাবাহিক কাজ। ডব্লিউটিও ইতোমধ্যে কিছু সুপারিশ দিয়েছে। বাংলাদেশও তার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবারের নীতিতে যেসব বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তা হলো আমদানিনীতি আদেশ, রপ্তানিনীতি, বাণিজ্য প্রতিরক্ষা, বিভিন্ন ধরনের সংস্কার, কাস্টমস ও সীমান্ত, আন্তর্জাতিক পরিবহন নেটওয়ার্ক, ডব্লিউটিওতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি এবং মুক্তবাণিজ্য চুক্তি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার নীতি, ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস সুরক্ষা, গুণগত অবকাঠামো, সরকারি কেনাকাটা, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাণিজ্য উদ্যোগ, মুদ্রা ও বিনিময় হার নীতি, আর্থিক নীতি ও কর কাঠামো, বাণিজ্য সম্পর্কিত অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব প্রভৃতি। এ ছাড়া দেশের শিল্প ও এসএমই-নীতি, কৃষি ও অন্যান্য খাতবিষয়ক নীতি, বিশ্ব ও আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশগম্যতা, বিদ্যমান ও সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের চ্যালেঞ্জ, কর্মসংস্থান ও শ্রম অধিকার, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন, আমদানি ও রপ্তানিনীতির মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ও নতুন বাণিজ্যনীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।