ভারতে পৌঁছেছেন সৌদি যুবরাজ

নানা টালবাহানার পর পাকিস্তান সফর শেষ করে ভারতে পৌঁছেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।  গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে দিল্লির বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় যুবরাজকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ৩০ ঘণ্টার সফরে ভারত এসেছেন তিনি। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর রাত ১১টা ৫০ মিনিটে রিয়াদের উদ্দেশে রওনা দিবেন তিনি। সন্ত্রাসবাদ ও বাণিজ্য সম্পর্কিত নানা বিষয় নিয়ে দুই নেতাদের মধ্যে আলোচনায় এই সফরটি ঘনিষ্ঠভাবে দেখা হচ্ছে।  এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে নিরাপত্তা।  তবে কোনো এক অজানা কারণে পাকিস্তান সফর শেষেই রিয়াদ চলে যান যুবরাজ।  এদিকে সম্প্রতি কাশ্মীরের পুলওয়ামার সন্ত্রাসী হামলার শাস্তি হিসেবে পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে পৃথক করার চেষ্টা করছে মোদি সরকার।  অন্যদিকে পাকিস্তান সফরে ইসলামাবাদের ‘আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা’ প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন যুবরাজ। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মাটিতে পা রেখেই সেখানে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছেন সৌদি যুবরাজ। পাকিস্তানের মতো ভারতেও সৌদি আরবের একাধিক মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে পৌঁছান যুবরাজ সালমান।  পাকিস্তান সফরে যৌথ বিবৃতিতে যুবরাজ শান্তি স্থাপনের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া কথা জানিয়েছে।  একই সঙ্গে আলোচনা ছাড়া ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে অন্য কোনো পথে শান্তি স্থাপন হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সৌদি আরবের আটটি প্রধান মিত্র দেশের মধ্যে একটি ভারত।  দুপক্ষই নিজেদের মধ্যে থাকা সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে চাইছে।  দুটি দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশী দারিত্বের জন্য বিশেষ কাউন্সিল তৈরি হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। এর আগে ২০১৬ সালে সৌদির রাজধানীতে যান মোদি। সেই সফরেও একাধিক  গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল দুদেশের রাষ্ট্র প্রধানদের মধ্যে। সৌদি রাজপুত্র ভারত,পাকিস্তানসহ  এশিয়ার তিনটি দেশে সফর শুরু করেছেন। ভারত সফর শেষে তার চীনে যাওয়ার কথা।   গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেট খুন হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি।  সেই ঘটনায় বিতর্কে জড়িয়ে পরেন সৌদি যুবরাজ।  এর পর এই প্রথম এশিয়া সফর করলেন তিনি।