বাস-ট্রাকের ৬৭ ভাগ চালকের চোখে ত্রুটি

চোখের সমস্যার কারণে ৩৬ ভাগ বাস ও ট্রাকের চালক গাড়ি চালানোর সময় রাস্তার দুপাশের সাইন (রোড সাইন) বা সংকেত দেখতে পান না। আর চোখে ছোট-বড় সমস্যা রয়েছে ৬৬.৭৬ শতাংশ চালকের। চোখের সমস্যা রয়েছে বুঝতে পারার পরও চিকিৎসকের কাছে যাননি তারা। মূলত ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের ভয়ে চোখের সমস্যার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। রাজধানীর ৮ বাস, ট্রাক ও সরকারি বাস ডিপোতে ৫০০ চালকের ওপর জরিপ করে এ তথ্য জানিয়েছে মানবিক সাহায্য সংস্থা (এমএসএস) নামক একটি বেসরকারি সংস্থা। রাজধানীর পান্থপথে সংস্থাটির নিজ কার্যালয়ে গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি এসব চালককে দ্রুত চোখের চিকিৎসা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৫২ জন চালকের দৃষ্টিজনিত সমস্যা রয়েছে। ২৫৮ চালক উভয় চোখে সমস্যায় ভুগছেন। ৪৩ জন ডান চোখের এবং ৫১ জন বাঁ চোখের সমস্যায় ভুগছেন। ৬২ চালক পাওয়ার চশমা ব্যবহার করেন। ১১১ জন বলেছেন তাদের চোখে ব্যথা আছে। ২০৪ জনের চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং ১১৭ জনের চোখ চুলকায় ও জ¦ালাপোড়া করে বলে জানান তারা। ২৬৫ জন মোবাইল ফোন ব্যবহার ও পত্রিকা পড়তে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। ৩০০ চালকের জরিপে এসেছে ১০৯ জন রোড সাইন দেখতে পান না, যা শতকরা ৩৬ শতাংশ। সংস্থাটি ৫০০ চালকের মধ্যে ২০২ জন বাস, ৪৭ জন মিনিবাস, ১২০ জন কাভার্ডভ্যান ও বড় কন্টেইনারবাহী ট্রাক, ১৩১ জন ৫ টনি ট্রাক চালকের সাক্ষাৎকার নেয়। চালকদের মধ্যে ৪৩৭ জন দূরপাল্লার এবং ৬৩ জন মহানগরীতে গাড়ি চালান।জরিপে অংশগ্রহণকারী তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের চালক, হেলপার ও পরিবহন ইউনিয়ন স্টাফদের আজ রবিবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। এমএসএসের প্রেসিডেন্ট ফিরোজ হাসান বলেন, দেশে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনের চালকরা চোখের সমস্যায় ভুগছেন। তাদের চোখের ত্রুটির কারণেও দেশে দুর্ঘটনা ঘটছে। তার পরও বেশরিভাগ চালকই চিকিৎসকের কাছে যান না। ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ভয়ে তারা চোখের সমস্যার বিষয়টি কারও কাছেই স্বীকার করতে চান না। ফিরোজ হাসান বলেন, সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গাড়ি চালকদের চোখের সমস্যা জানতে জরিপ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পর ৮টি বাস টার্মিনাল ও ট্রাকস্ট্যান্ডের চালকদের চোখের সমস্যা জানতে জরিপ চালানো হয়। সংস্থার উপদেষ্টা তারিকুল গনি বলেন, সড়কের বেহাল দশা, বিপজ্জনক বাঁক, চালকদের বেপরোয়া আচরণ, অদক্ষ চালক, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে বলে আমরা সবাই জানি। কিন্তু চালকদের চোখের সমস্যার কারণে কত দুর্ঘটনা ঘটেছে তা আমরা জানি না। এখন বাস টার্মিনাল ও ট্রাক স্ট্যান্ডগুলোয় চিকিৎসকদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে চালকদের চোখের স্বাস্থ্যের সেবা প্রদান করা হবে।