মানুষহীন ভবনে ঝুলছে শোকের ব্যানার

পুরান ঢাকার চকবাজারের হাজী ওয়াদেহ ম্যানশনে গত বুধবার রাত ১০টার আগ পর্যন্ত সেখানকার প্রতিটি ফ্ল্যাটে কম-বেশি মানুষ ছিল। কেউ রাতের খাবার শেষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, কেউ টিভি দেখছিলেন, আবার কেউ অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই আগুন কেড়ে নিয়েছে সব।

হাজী ওয়াদেহ ম্যানশন ছাড়াও পাশের আরও তিনটি ভবনের একই অবস্থা। আগুনে পুড়ে যাওয়া এসব ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বাসিন্দাদের। আগুনে পোড়া ভবনের জিনিসপত্রগুলো থেকে খুঁজে খুঁজে অবশিষ্টাংশ বের করে নেওয়া হয়েছে। এখন আগুনে পোড়া ভবনটির বুকে পোড়া দাগ নিয়ে নির্বাক দাঁড়িয়ে আছে।

ওই ভবনের বাইরের অংশে ঝুলছে প্রায় অর্ধ-শতাধিক ব্যানার। আগুনের ঘটনার পরের দিন ভবনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে কয়েকটি ব্যানার টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত দুদিনে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ভবনগুলোতে শোক প্রকাশের প্রায় অর্ধ-শতাধিক ব্যানার টাঙানো হয়েছে।

কেবলমাত্র পুড়ে যাওয়া ভবনগুলোতেই নয়, চকবাজারের পাশের অনেক গলির মধ্যে নিহতের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রকাশের ব্যানার দেখা গেছে।

এসব ব্যানারে দেখা যায়, স্থানীয় প্ল্যাস্টিক ব্যবসায়ী সমিতি, নন্দন কুমার দত্ত রোড প্রগতি সংঘ, রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত নামে বা সংগঠনের নামে শোকের সমবেদনা জানিয়ে এসব ব্যানার ঝুলিয়েছেন।

তবে গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার পর থেকে হাজী ওয়াদেহ ম্যানশনসহ অন্যান্য ভবনে ব্যানার টাঙানোর সুযোগ পায়নি অনেকে। কারণ এসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে সাধারণ মানুষদের রাখা হচ্ছে। ওই ভবনের নিচে কাউকেই দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না।

শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুরান ঢাকার যেসব বাড়িতে রাসায়নিকের গুদাম আছে, তা দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। কোনো বাড়িতে রাসায়নিকের গুদাম পাওয়া গেলে সেই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মেয়রের এমন বক্তব্যের পরে এই বিষয়ে সতর্কতামূলকভাবে মাইকিংও করা হচ্ছে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়।

গত বুধবার রাতে চকবাজারে চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৭ জনের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত অশনাক্ত মৃতদেহগুলো শনাক্ত করতে ৩৬ জনের ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে।