কই গেলে পাব আমার বাজানরে

বন্ধুদের সঙ্গে বোনের বিয়ের কেনাকাটা করতে গিয়ে চকবাজারে আগুনে পুড়ে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিল হাসান রোহান। তার লাশ এখনো খুঁজে পায়নি স্বজন। ছেলের ছবি হাতে কখনো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, কখনো চকবাজার ছুটছেন বাবা মোহাম্মদ হাসান। গতকাল সকালে চুড়িহাট্টার অগ্নিকা-স্থলে দেখা যায় তাকে। আগুনে পুরে যাওয়া সন্তানের মোটরসাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন অসহায় এ বাবা। আর্তনাদ করতে করতে বলেন, ‘আমার রোহানরে লাগবে না রে বাবা। ওর শরীরের একটা টুকরার খোঁজ দেও কেউ। ওইটা বুকে নিয়া, আমার বাজানরে বুকে নিয়া একটু কান্দি।’ রোহান সব সময় হাতে একটি ব্রেসলেট পরতেন জানিয়ে হাসান বলেন, ‘আজ এতগুলো দিন গেল আমার বাজানরে খুঁইজা পাইলাম না। ওর সাথের বন্ধুর লাশ পাইলেও আমার বাজানেরটা এখনো পাই নাই রে, বাবা। ওরে খুঁইজা পাইতে ব্রেসলেটটাই ছিল শেষ ভরসা। কে বা কারা যেন ব্রেসলেটটা খুইলা নিছে। এখন আর বাজানরে চেনার কোনো উপায় দেখতাছি না।’ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র রোহান দুর্ঘটনার দিন চার বন্ধুকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। তার মোটরসাইকেলে ছিলেন আরাফাত। আগুনের লেলিহান শিখায় তিনিও নিহত হন। কাজী আলাউদ্দিন রোডসংলগ্ন মসজিদ এলাকার বাসিন্দা আরাফাত। অপর একটি মোটরসাইকেলে রোহানের সঙ্গে ছিলেন তার ভাগ্নে লাবিব, রমিজ ও সোহাগ। দুর্ঘটনায় লাবিবের মাথার সামান্য অংশ পুড়লেও সে ও বাকি দুজন প্রাণে বেঁচে গেছেন। মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘রোহানের মরদেহ মর্গে আছে বলে নিশ্চিত হলেও কেউ শনাক্ত করতে পারছি না। কই গেলে পাব আমার বাজানরে। তোমরা কেউ বাজানরে আমার বুকে দাও।’