‘ককপিট না খুললে বিমান উড়িয়ে দেব’

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর তখন আকাশের প্রায় ১৫ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থান করছিল বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ময়ূরপঙ্খি। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু হঠাৎ যাত্রীর আসনে থাকা এক তরুণ উঠে ককপিটের দিকে ছুটে যান। এ সময় শাহেদুজ্জামান সাগর নামে এক কেবিন ক্রু তাকে বাধা দেন। তখন ওই তরুণ ক্রুকে ধাক্কা দেন এবং ককপিটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান সাগর। একপর্যায়ে ওই তরুণ একটি পিস্তল ও বোমাসদৃশ বস্তু বের করে বলেন, তিনি বিমান ছিনতাই করবেন। তার কাছে পিস্তল ও বোমা আছে। ককপিট না খুললে বিমান উড়িয়ে দেবেন। গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে ছিনতাই চেষ্টার শিকার বাংলাদেশ বিমানের ময়ূরপঙ্খী উড়োজাহাজের ক্রু ও যাত্রীরা এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাইগামী ফ্লাইটটিতে কর্মরতরা জানান, ওই তরুণ অস্ত্র বের করে হুমকি দিলে কেবিন ক্রুরা ককপিটে থাকা পাইলট এবং সহকারী পাইলটকে সাংকেতিক বার্তা দেন।তারা পাইলটকে সাংকেতিক ভাষায় বলেন যে, উড়োজাহাজে অস্ত্রধারী আছে এবং সে উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছে। ওই সময় ময়ূরপঙ্খী চট্টগ্রাম ও ঢাকার মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করছিল। খবর পাওয়া মাত্রই পাইলট মো. গোলাম শাফি ও সহকারী পাইলট মুনতাসির মাহবুব ককপিটের দরজা বন্ধ করে দিয়ে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের বার্তা পাঠান। ওই সময় পাইলটরা ককপিটের দরজা না খোলায় অস্ত্রধারী সেই তরুণ উড়োজাহাজের ভেতর চিৎকার করছিলেন। একপর্যায়ে সে উড়োজাহাজের ভেতরে ‘বিস্ফোরণের’ মতো ঘটান। এ অবস্থার মধ্যেই ময়ূরপঙ্খী শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় সুযোগ বুঝে ক্রু সাগর অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীকে আটকে রাখেন এবং যাত্রীরা উড়োজাহাজের ডানার পাশের চারটি ইমারজেন্সি গেট দিয়ে একে একে নেমে পড়েন। এর আগেই উড়োজাহাজের চারপাশ ঘিরে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ ফায়ার সার্ভিসের দল। পরে ঘটনাস্থলে আসে কমান্ডোরা। গতকাল ছিনতাই চেষ্টার শিকার উড়োজাহাজটিতে পাইলট ক্যাপ্টেন মো. গোলাম শাফি এবং সহকারী পাইলট মুনতাসির মাহবুব ছাড়াও আরও ৫ ক্রু ছিলেন। তারা হলেন- শফিকা নাসিম নিম্মি, হোসনে আরা, শরীফা বেগম রুমা, শাহেদুজ্জামান সাগর ও আবদুস শুকুর মোজাহিদ।