ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থীর রঙিন পোস্টার-ব্যানার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের সর্বত্র শিক্ষার্থীদের আলোচনা, আড্ডায় এখন স্থান পাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ বা ডাকসু নির্বাচন। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র জমাদানপর্ব শেষ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইও শেষ। প্রাথমিকভাবে প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করেছে ঢাবি প্রশাসন। ২৮ বছর পর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে লড়াই করবে ক্যাম্পাসে তৎপর প্রায় সব ছাত্র সংগঠন। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সব ছাত্র সংগঠনেরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘একচোখা নীতি’সহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে তালিকা ঘোষণার পর দেখা গেছে, হল সংসদে একাধিক প্রার্থী না থাকায় প্রায় ৫০ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এই ৫০টি পদে যারা একক প্রার্থী, তাদের প্রায় সবাই ছাত্রলীগ থেকে মনোনীত। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের জোর অভিযোগ, ছাত্রলীগকে বিশেষ সুবিধা দিতেই প্রশাসন অন্য সংগঠনগুলোর মনোনীতদের প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। এ ছাড়া হল পর্যায়ে এখনো কর্তৃপক্ষ সব সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি এমন অভিযোগ তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে এসব সংগঠন। এদিকে ঢাবি ক্যাম্পাসের অনেক দেওয়াল ও স্থাপনায় এখন শোভা পাচ্ছে ছাত্রলীগ মনোনীত ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের রঙিন ছবিসংবলিত পোস্টার। ভোট প্রার্থনা করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে টানানো হয়েছে ব্যানারও। বিষয়টি নিয়ে অন্য প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে সমালোচনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের মাত্র দিন দশেক আগে আচরণবিধির এমন স্পষ্ট লঙ্ঘন প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের চাক্ষুষ নজির। ডাকসুর নির্বাচনী আচরণবিধির ৬ (ক) ধারায় উল্লেখ আছে, নির্বাচনী প্রচারে কোনো প্রার্থী নিজের সাদা-কালো ছবি ছাড়া লিফলেট বা হ্যান্ডবিলে অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না। লিফলেট ছাপানো ও বিলি করা যাবে। আর ৬ (খ) ধারায় আছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হল এলাকায় অবস্থিত কোনো প্রকার স্থাপনা, দেয়াল, যানবাহন, বেড়া, গাছপালা, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি বা অন্য কোনো দ-ায়মান বস্তুতে লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগানো যাবে না। এ বিষয়ে জানতে ডাকসু ভিপি প্রার্থী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে প্রধান রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. এসএম মাহফুজুর রহমান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি সবার জন্য সমান। কেউ যদি তা লঙ্ঘন করে, তার বিরুদ্ধে প্রক্টরের কাছে অভিযোগ করা যাবে। অভিযোগ পেলে তারা বিষয়টি দেখবে। বাম জোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে যে নিরপেক্ষ ভূমিকা আশা করেছিলাম, তা এখনো পাইনি। আমরা কিছু অভিযোগ লিখিতভাবে জমা দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত প্রশাসনের আচরণে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কোনো কারণ আমরা পাইনি। আমরা দেখেছি, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনের কাউকে হলগুলোয় যেতে দেওয়া হচ্ছে না। হলে সহাবস্থান না থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা সব হলে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি, কথা বলেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের এখন পর্যন্ত আশ্বস্ত করতে পারেনি। অথচ নির্বাচনের আর বেশিদিন বাকি নেই। এখনো সহাবস্থান নিশ্চিত না করলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান আদৌ সম্ভব কি প্রশ্ন রাখেন তিনি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মঞ্চ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নূর বলেন, বতর্মান পরিস্থিতিতে আশাবাদী হওয়ার যেমন কারণ আছে, নিরাশাবাদী হওয়ারও তেমন অনেক কারণ রয়েছে। প্রশাসনের চেহারা একেক সময় একেক রকম আমরা দেখতে পাই। পুরোপুরি আস্থার জায়গাটা তারা অর্জন করতে পারেনি। প্রার্থিতা ফিরে পাচ্ছেন জিএস পদের দুই প্রার্থী বিশ্বস্ত সূত্রমতে, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে আপিল করা ৫ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে যাচ্ছেন। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেবে ঢাবি প্রশাসন। প্রার্থিতা ফিরে পেতে যাচ্ছেন বলে গতকাল নিজেই নিশ্চিত করেছেন বাম জোটের প্যানেল থেকে জিএস প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজীর। জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী এআরএম আসিফুর রহমানও প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে সদস্যপদে প্রার্থী শাফায়াত হাসনাইন সাবিতও প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে জানা গেছে।