ঢাকা উত্তরের নির্বাচনে ভোট পড়েছে সর্বনিম্ন

২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে ভোট পড়েছে ৩১ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর আগের ঢাকা সিটির সব নির্বাচনের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণে এবারই প্রথম এত কম ভোট পড়েছে। কেন? এর জন্য মূলত তিনটি কারণ উঠে এসেছে সিইসি, ক্ষমতাসীন দলের নেতাসহ সংশ্লিষ্টদের মন্তব্যে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দেশের রাজনীতিতে অন্যতম বড় দল হিসেবে বিবেচিত বিএনপির এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা; ভোটের দিন বৃষ্টিপাতের বিষয়টি। আর খোদ বিএনপি বলছে, শুধু তাদের দলই নয়, জনগণও এ সরকারের অধীনে নির্বাচন বয়কট করেছে বলেই এহেন দশা সৃষ্টি হয়েছে। ডিএনসিসির ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিলের নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নির্দলীয়’ বলা হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। তৎকালে ভোটগ্রহণের দিন দুপুরে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপির সমর্থনপুষ্ট মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তবু সে নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৩৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। জানা গেছে, এরও আগে অবিভক্ত ঢাকা সিটিতেও এবারের চেয়ে কম ভোট কখনো পড়েনি। ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, সিটি নির্বাচনে এর আগে কখনো এত কম ভোট পড়েনি, এটাই সর্বনিম্ন। তবে ছুটির দিন (গতকাল) হওয়ায় তিনি ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিসংখ্যান জানাতে পারেননি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা অবশ্য কম ভোটারের উপস্থিতির বেশ কয়েকটি কারণের কথা বলেছেন। এর মধ্যে প্রধান তিনটি কারণ হিসেবে তিনি জানানÑ প্রথমত, এ উপনির্বাচনটি ছিল স্বল্প মেয়াদের জন্য; দ্বিতীয়ত, বিএনপির নির্বাচন বর্জন এবং তৃতীয়ত, ভোটগ্রহণের দিন প্রচুর বৃষ্টিপাত। একই বিষয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ভোটের দিন ছুটি থাকায় অনেক ভোটার বাড়ি চলে গিয়েছিলেন; বড় একটি দল অংশ নেয়নি; দিনের শুরু থেকেই বাগড়া দিয়েছিল বৃষ্টি। এ ছাড়া এটি ছিল উপনির্বাচন। এসব কারণেই ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। এদিকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মনে করেন, শুধু তাদের দলই নয়, জনগণও এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে; আওয়ামী লীগ সরকার আয়োজিত এই ভোটের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। এ কারণেই এবার সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে। এটি সরকারের জন্য লজ্জাজনক এক বার্তা বলে মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩০২ ভোট পেয়েছেনÑ উল্লেখ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতা প্রশ্ন রাখেন, এত ভোট কোত্থেকে এলো? এর পর তিনিই এর সমাধান দেন। বলেন, উত্তর পরিষ্কারÑ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেমন ভোট ডাকাতি হয়েছিল, জনগণের রায় দেওয়া, কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি; তবু ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ডিএনসিসির ২৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও একই কা- ঘটেছে। ভোট পড়েছে ৩১ শতাংশ। অথচ সরকার তার ‘সিস্টেমের’ মাধ্যমে তা সম্পূর্ণ করেছে! ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র উপনির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজার ২৬টি; শতাংশে দাঁড়ায় ৩১.০৫ ভাগ। বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়ে গেছে ১৯ হাজার ৫১৩ ভোট। ১২৯৫টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোতেই যথার্থভাবে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চলায় কোনো কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করা হয়নি। প্রসঙ্গত, ডিএনসিসির ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১। নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ এককভাবে না পাওয়ায় নির্বাচনী বিধি মোতাবেক জামানত হারাবেন মেয়র পদে আতিকুল ইসলাম ছাড়া অন্য সব প্রার্থী। তারা হলেন জাতীয় পার্টির মো. শাফিন আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) শাহীন খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুর রহিম। শাফিন ৫২ হাজার ৪২৯, আব্দুর রহিম ১৪ হাজার ৪০, মো. আনিসুর রহমান ৮ হাজার ৬৯৫ এবং শাহীন খান ৮ হাজার ৫৬০ ভোট পেয়েছেন। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিলের নির্বাচনে মেয়র পদে ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সে সময় ভোটারসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ; ভোট পড়েছিল প্রায় ৮ লাখ ৪১ হাজার। সেই নির্বাচনে আনিসুল হক টেবিলঘড়ি প্রতীকে ৪ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তাবিথ আউয়াল বাস প্রতীকে পেয়েছিলেন ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০ ভোট। অবশিষ্ট ১৪ প্রার্থীর প্রত্যেকেই জামানত হারিয়েছিলেন।