‘শত কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন তারা’

মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে শেয়ার হোল্ডার বানানোর নাম করে গত ১৫ বছরে আনুমানিক ১০০ কোটির বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্রটি। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী এবং বড় ব্যাবসায়ীদের টার্গেট করে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে এমনটি করতেন তারা। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত র‍্যাব-৪-এর একটি দল রাজধানীর মিরপুর, দারুস সালাম, উত্তরা ও রামপুরা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বিপুল পরিমাণ ভুয়া নথিপত্র ও সরঞ্জাম জব্দসহ চক্রের ২২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।  গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বরিশালের ইমরান হাসান (২৭), সঞ্জিত চন্ত্র সাহা (৩৪),মো. ইউসুফ (৫৩),সিলেটের এম আজাদ (৫০),মো. মাকসুদুর রহমান দিপু (৩৫), গাইবান্ধার মো. হুমায়ন কবির হালিম (৫৭), কিশোরগঞ্জের আ ন ম রফিকুল ইসলাম (৪৯), কুমিল্লার আল আমিন সরকার রাজ (২২), মো. শাহাদাৎ হোসেন (৩০), মেহেদী হাসান হাবিব (৩১), মুন্সিগঞ্জের আবদুল বারেক এবি বারী (৬১), মো. মিনহাজ মিঝি (৫৬), মো. মাসুদুর রহমান জলিল আ . জলিল (৫০),মো. রফিকুল ইসলাম (৬৪), জামালপুরের আবদুল আউয়াল (৪৬), সাতক্ষীরার মো. কামরুজ্জামান (৪৫), ফরিদুপরের মো. হাবিবুর রহমান (৩৫), চুয়াডাঙ্গার মো. আয়নাল হক (৩৮), ফেনীর মো. সামসুল আলম মজুমদার (৪৮), নেত্রকোনার মো. হিরণ (১৯), শরীয়তপুরের মো. মামুনুর রশিদ (৩৪), ও মো. মিজান (৩৫)। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘সুসজ্জিত দামি অফিস ও দামি গাড়ি ভাড়া নিয়ে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির নামে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অফিস খুলত এই  প্রতারক চক্রটি। পরে তাদের টার্গেট করা ব্যক্তিদের কৌশলে অফিসে এনে ভুয়া চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে নিত তারা। তাদের বলা হতো এই চুক্তির মাধ্যমে তাদের কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরে কিছু দিন যাওয়ার পর তাদের কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার করার প্রস্তাব দেয় চক্রটি। এই প্রস্তাবে ভিকটিমরা রাজি হলে তাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চায় চক্রের সদস্যরা। পরে নগদ অর্থ হাতে পাওয়ার পর পরই অফিসসহ উধাও হয়ে যেত প্রতারক চক্রটি।’মুফতি মাহমুদ আরও বলেন, ‘এই প্রতারক চক্রটি অন্য সব প্রতারক চক্রের মতো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত না। তারা প্রতারণাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে একটি সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত। বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করত। প্রতিটি গ্রুপে পাঁচটি স্তরে তাদের সদস্যরা কাজ করত। স্তরগুলো হলো সাব ব্রোকার, ব্রোকার, ম্যানেজার চেয়ারম্যান ও সর্বশেষ কোম্পানির প্রধান বস।’মূলত পাঁচটি কৌশল অবলম্বন করে তারা এই প্রতারণা করে আসছিল বলে জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের জমি বা নির্মাণাধীন ভবনের ওপর ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনের প্রলোভন, এনজিও সেজে বিনা খরচে সোলার প্যানেল স্থাপনের চুক্তি। ইট, পাথর, রড ও সিমেন্ট গার্মেন্টস ঠিকাদারি দেওয়ার কথা বলে এবং অফিসে নিয়ে এসে তাস খেলার ফাঁদে ফেলে ব্যক্তির কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিত চক্রটি।’ গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।