ক্রমেই বাড়ছে বৈদেশিক ঋণ বাড়ছে পরিশোধের চাপও

বিদেশি উৎস থেকে ঋণগ্রহণের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। গত বছরের জুন পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৫১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার,যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)। ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিশোধের চাপও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈদেশিক ঋণ বেড়ে যাওয়ায় এর দায়ের বোঝা চাপছে রাষ্ট্রের ওপর। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ের চাপও বাড়ছে। কারণ এসব ঋণ হলো সরবরাহ ঋণ, যা হার্ড লোন হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ এ ঋণের সুদ নির্ধারণ হয় বাজার রেটে। এ কারণে এসব ঋণের সুদ তুলনামূলকভাবে বেশি। আবার এসব ঋণ নেওয়া হয় বিদেশি মুদ্রায়, পরিশোধও করা হয় বিদেশি মুদ্রায়। তাই এসব ঋণ বেশি হলে দেশের ওপর চাপ বাড়ে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতির মোট পরিমাণ ৩ হাজার ৩৫১ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪২০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক ৮৮৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার, জাপান ৪৭১ কোটি ৫০ লাখ, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ৫২ কোটি ডলার, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল ৪৫ কোটি, চীন ১৯৯ কোটি, রাশিয়া ১২০ কোটি, দক্ষিণ কোরিয়া ৪৩ কোটি মিলিয়ন, ভারত ৩২ কোটি এবং অন্যান্য সংস্থার কাছে বৈদেশিক ঋণ স্থিতির পরিমাণ ৮২ কোটি মার্কিন ডলার। উল্লেখ্য, ঋণের পরিমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের তুলনায় বেশি। গত বছরের জুন পর্যন্ত রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৯৪ কোটি ডলার। এদিকে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ব্যয়ও ক্রমশ বাড়ছে। গত অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ বাবদ প্রায় ১৪১ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ১১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে আসল বাবদ ৯ হাজার ১৪৩ কোটি এবং সুদ বাবদ ২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব ঋণের সুদ আপাতত কম মনে হলেও কার্যকারী হার আরও বেড়ে যাবে। যেমন একজন বিনিয়োগকারী বিদেশ থেকে ৬ শতাংশ হারে ১০০ কোটি ডলার (৮৪ টাকা প্রতি ডলার হিসেবে) ঋণ গ্রহণ করল। এক বছর পর প্রতি ডলার ৯০ টাকা হলে প্রতি ডলারে টাকার মান কমে প্রায় ৭ শতাংশ। যেহেতু ডলারে ঋণ করে টাকায় ব্যয় করলেও ডলারে পরিশোধ করায় বিনিময় হারের কারণে সুদ ব্যয় বেড়ে হবে (৬+৭) সোয়া ১৩ শতাংশ। এভাবে ৫ বা ১০ বছর মেয়াদি বিদেশি ঋণ নিলে কার্যকরী হার অনেক বেড়ে যাবে। যেমনÑ ২০১৬ সালে প্রতি ডলার ছিল ৭৯ টাকা, বর্তমানে যা আমদানিপর্যায়ে ৮৫ টাকায় উঠে গেছে।