‘এ চলচ্চিত্র আমার জন্য একটা নতুন চ্যালেঞ্জ’

তাহসান খান। তিনি একাধারে গায়ক, অভিনেতা, উপস্থাপক ও শিক্ষক। এবার তার নামের আগে যুক্ত হচ্ছে চিত্রনায়ক। ৮ মার্চ মুক্তি পাচ্ছে তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘যদি একদিন’। বর্তমানে এর প্রচারে ব্যস্ত আছেন তিনি। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রের জন্য পুরো দল ছুটছে এদিক-ওদিক। চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা হয় তাহসানের সঙ্গে। প্রচারেই প্রসার- কথাটা কতটুকু বিশ্বাস করেন? এটা বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কথা নয়। এটা বাস্তবতা। আপনি অনেক কষ্ট, পরিশ্রম করে একটা পণ্য বাজারে ছাড়লেন- কিন্তু সেটা কেউ জানলই না, তা হলে বিক্রিটা হবে কী করে? চলচ্চিত্রটাও অনেকের পরিশ্রমের ফসল, এই ফসলকে সফল করতে হলে অবশ্যই প্রচার দরকার। আমি এবং ‘যদি একদিন’-এর পুরো টিম চেষ্টা করছি মানুষের কানে পৌঁছে দিতে যে, একটি চলচ্চিত্র আসছে- যেটি পুরো পরিবার নিয়ে দেখা যাবে। প্রচারের নতুন পরিকল্পনা কী? পত্রিকা অফিস, টেলিভিশন, রেডিও, ফেসবুক লাইভ- সবই করছি। চলচ্চিত্রটি নিয়ে সবার কাছে যাচ্ছি। রবিবার গিয়েছিলাম এফডিসিতে। সেখানে সবাই আমার চলচ্চিত্রের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। এখন (গতকাল) যাচ্ছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। সেখানে মাইকিং করব। মাইকিং! হুম, মাইকিং। এক সময়তো চলচ্চিত্রের প্রচার মাইকিং করেই হতো। বলা হতোÑ আসিতেছে, আসিতেছে… ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহে পারিবারিক গল্পের ছবি। আমরা সেটাই করতে যাচ্ছি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে কথা বলছি। গভীর রাতে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে পোস্টার লাগাচ্ছি। সম্প্রতি মগবাজার মোড়ে নিজের ইচ্ছায় পোস্টার লাগিয়েছি। আমার প্রথম অ্যালবাম মুক্তির আগের রাতেও মগবাজার মোড়ে পোস্টার লাগিয়েছিলাম। প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের সময় যে ভয়টা কাজ করেছিল, প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তির বেলায়ও কি সেই ভয়টা লাগছে? এটাকে ঠিক ভয় বলব না। রোমাঞ্চ বলব। আমি সত্যিই খুব রোমাঞ্চিত। আর এমন অনুভূতি যে কোনো কাজ প্রথম করতে গেলেই আসে। এটা আমার কাছে একটা নতুন চ্যালেঞ্জ। তাই চলচ্চিত্র মুক্তির দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই অন্য রকম লাগছে। এখন নিশ্চয় অনেক প্রকার দুশ্চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে? সত্যি বলতে, একদমই না। কারণ আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শুধু আমি না, পরিচালক বলেন, সহশিল্পী বলেন, কণ্ঠশিল্পী বলেন- সবাই তাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। গান একটি চলচ্চিত্রকে উপস্থাপন করে। আমি বলব, ‘যদি একদিন’-এর প্রতিটি গান সবার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। সংগীতশিল্পী হৃদয় খান তার জীবনের শ্রেষ্ঠ গান এই চলচ্চিত্রে করে ফেলেছেন। আবার শুটিং শেষে ডাবিংয়ের সময় বিভিন্ন দৃশ্য নিয়ে আমি পরিচালকের সঙ্গে ঝগড়া করেছি। প্রথম দেখায়, ৩৫টা নোট ধরিয়ে দিয়েছিলাম। বলেছি, দরকার হলে দৃশ্য বদলাতে হবে। এসব সংশোধনের পর এখন আমার প্রত্যাশা অনেকগুণ বেড়ে গেছে। তাই এই চলচ্চিত্র নিয়ে এখন কোনো প্রকার দুশ্চিন্তা মাথায় আসছে না। দর্শকের সঙ্গে একই সারিতে বসে নিশ্চয় চলচ্চিত্রটি দেখবেন? আমি এই বিষয়টার জন্য মুখিয়ে আছি। সিনেমা হলে দর্শক সারিতে বসে দর্শকের সঙ্গে চলচ্চিত্র দেখার অনুভূতিটা নিশ্চয় অন্যরকম হবে। প্রথম দিন কতগুলো সিনেমা হলে যাবেন? ঢাকার অনেকগুলো হলে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। এর মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্স, বক্লবাস্টার সিনেমাস, বলাকা, শ্যামলী ও মধুমিতায় যাব। এর পর ঢাকার বাইরের সিনেমা হলগুলোতেও যাওয়ার ইচ্ছা আছে। রোমান্টিক নায়ক হিসেবেই দর্শক আপনাকে ছোট পর্দায় দেখে আসছেন। প্রথম চলচ্চিত্রেও কি সেই লুকে হাজির হচ্ছেন? ‘যদি একদিন’-এ আমি একজন বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছি। যা আগে কখনো করিনি। চলচ্চিত্রের ‘লক্ষ্মীসোনা’ শিরোনামের গানের দৃশ্যে শিশুশিল্পী রাইসার সঙ্গে এতটাই মিশে গিয়েছিলাম, অনেক বাবা আমাকে জানাচ্ছেন- বাসায় গিয়ে তাদের ওই গান ছেড়ে দিয়ে নাচতে হয়। আর একটি চলচ্চিত্রের গল্পটাই আসল। সেই গল্পে ভালোবাসা থাকবে, মারামারি থাকবে, নাচ থাকবে। একজন অভিনেতা হিসেবে গল্পটাই আমাকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে হবে। গল্প-অভিনয়শিল্পী না পরিচালক; একটি চলচ্চিত্রের কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন? আমার কাছে মনে হয়, এই তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। চলচ্চিত্র আসলে একজনের না, নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা কিংবা পরিচালক-প্রযোজকের না-এটা সবার সম্মিলিত প্রয়াস। আপনার নতুন কোন গান প্রকাশ হবে? ভালোবাসা দিবসে আমার একটি গান প্রকাশ হয়েছিল। শিরোনাম ‘মায়াবি আলোতে’। গানটির সুর ও সংগীত করেছেন অদিত। কথা লিখেছেন রাকিব হাসান রাহুল। অত্যন্ত সুন্দর একটি কথা-সুরের গান এটি। চলচ্চিত্রের কাজের জন্য গানটি নিয়ে তেমন প্রচার করতে পারিনি। ব্যস্ততা শেষ হলে এই গানটি নিয়েই আবার প্রচারে নামব।