সোনারগাঁওয়ের এসিল্যান্ড বদলি ঠেকাতে তৎপর

নানা অনিয়মের অভিযোগে গত এক মাস আগে বদলি আদেশ পেয়েও পদ আঁকড়ে আছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিএম রুহুল আমিন রিমন। এদিকে অবৈধ আয়ের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় করেছেন তিনি। নামে-বেনামে ঢাকা শহরে একাধিক বাড়ি ও ফ্লাটের মালিক হয়েছেন। তার সম্পদের উৎস খুঁজতে তদন্তে নামছে দুদক। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ মানুষ ভূমি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। গ্রামের সাধারণ কৃষকদের অভিযোগ, তাদের নিজস্ব জমির নামজারি করার জন্য গত চার থেকে পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিন তারা এ অফিসে আসেন। দিনভর অপেক্ষা করে প্রতিদিনই তারা খালি হাতে চলে যান। কাঁচপুর এলাকার কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, এসিল্যান্ড রুহুল আমিন রিমনকে আমার ৩ বিঘা জমির মিউটেশন করতে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার পরও চার মাস ধরে তিনি আমার কাজটি করে দিচ্ছেন না। ভূমি অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেল, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছেন ১১ জন। এর বাইরে সরকারি অফিস ও চেয়ার দখল করে বসে রয়েছেন ২৫ জন। তারা স্থানীয়ভাবে ওমেদার হিসেবে পরিচিত। এ ওমেদারদের বেসরকারিভাবে নিয়োগ দিয়েছেন এসিল্যান্ড বিএম রুহুল আমিন। স্থানীয়রা জানান, ওমেদাররা মূলত ঘুষ বাণিজ্যের দরকষাকষি করে থাকেন। ওমেদারদের ছাড়া কোনো মিউটেশন এ অফিসে কেউ করতে পারেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর সোনারগাঁওয়ে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগ দেন রুহুল আমিন। স্থানীয় এলাকাবাসী গত দুবছরে তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিকবার বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও ভূমি সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জানুয়ারি তাকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখায় বদলি করা হয়। এর পরও তিনি পদ আঁকড়ে আছেন। তার বদলি ঠেকাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করতে হবে এ কথা বলে গত ১৫ দিন ধরে বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিক ও কর্মকর্তাদের অফিসে ডেকে নিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে আসছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিল্পকারখানার মালিক জানান, এসিল্যান্ড রুহুল আমিন তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে বদলি ঠোকাতে ১০ লাখ টাকার ঘুষ নিয়েছেন। তিনি আরও টাকা দাবি করছেন। চাহিদা মতো টাকা না দিলে তার কারখানার ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, গোপন সূত্রে জানা গেছে সোনারগাঁওয়ের এসিল্যান্ড নামে বেনামে ঢাকা শহরে একাধিক বাড়ি ও ফ্লাটের মালিক হয়েছেন। তিনি সম্পদের পাহাড় করেছেন। কমিশনের পরবর্তী সভায় অনুমোদন নিয়ে তার সম্পদের হিসাব চেয়ে তদন্তে নামবে দুদক। অভিযোগের বিষয়ে এসিল্যান্ড বলেন, আমার অফিসের কিছু লোক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। আমি কোনো দুর্নীতি অনিয়ম করিনি। আর আমাকে বদলি করা হলেও ওই স্টেশন আমার পছন্দ হয়নি। ভালো স্টেশন পেলে চলে যাব।