স্তনের ইনফেকশনে করণীয়

রোগটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুগ্ধদানকারী মায়ের হঠাৎ করেই হয়ে থাকে। তবে অন্য সময়ও এ রোগ হতে পারে। স্তনে জোরে আঘাত পেয়ে রক্ত জমে যাওয়া, স্তনের বোঁটায় শিশুর বা অন্য কেউ কামড়ে দিলে বা অন্য কোনো ঘা থেকে এমনটি হতে পারে। জন্মগতভাবে যেসব নারীর স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে থাকে, তাদের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তবে রোগটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ এবং স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস নামক ব্যাকটেরিয়া রোগটি ঘটানোর জন্য বিশেষভাবে দায়ী। এ রোগ হলে স্তনে টনটনে ব্যথা হয়, স্তন গরম হয়ে যায়, কিছুটা লালচে বর্ণ ধারণ করে এবং ফুলে যায়। অনেক সময় স্তনের ত্বক টানটান হয়ে চকচকে হয়ে যায় এবং স্পর্শ করলে তা ব্যথা উৎপন্ন হয়। শুরুতেই এ রোগ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এলে তার পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এ সময় স্তন বিশ্রামে রাখতে হয় এবং শিশুকে দুগ্ধদান বন্ধ রাখতে হয়। তবে ব্রেস্ট পাম্প নামক যন্ত্রের সাহায্যে দুগ্ধ বের করে ফেলতে হয়। শিশুটি এ সময় অন্য পাশের স্তন থেকে দুগ্ধপান করতে পারে। সাধারণত ওষুধ সেবনের শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং এটি অনেক সময় একটি চাকার মতো হয়ে জমে যায়। এমনটি হলে তা থেকে পরবর্তীকালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখে সিরিঞ্জের মাধ্যমে পাজ (চঁং) বের করে দিতে হয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেও যদি ওষুধ কাজ না করে, তা হলে অপারেশনের মাধ্যমে তা বের করে দিতে হয়। তবে অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করেও সুস্থ থাকতে পারবেন। লেখক : হোমিও চিকিৎসক চেম্বার : এইচ-২৩ আমতলী, মহাখালী, ঢাকা ০১৯৭০৫৫৫৯১৯, ০১৭৫২১১৭১৬১